লক্কড়-ঝক্কড় রাস্তাই মূল ভরসা মাতারবাড়ির মালামাল বহনে

দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে সমুদ্রের কোলঘেঁষে। ‘মাতারবাড়ি ২x৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ার্ড পাওয়ার প্রোজেক্ট’ শীর্ষক এ প্রকল্পের রড-সিমেন্ট-ইট-বালু আনার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে মাতারবাড়ি রাজঘাট ব্রিজ থেকে সাইরাটিল রাস্তাটি। অনেক দিনের পুরনো এ রাস্তায় ভারী যানবাহন ও গাড়ি চলছে লক্কড়-ঝক্কড়ভাবে।

রাস্তাটির মাঝে বড় গর্ত, খানাখন্দ। বৃষ্টি এলে পানি জমে। এতে ঝুঁকি তৈরি হয় বড় দুর্ঘটনার, আর চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় পথচারী ও স্থানীয়দের। এতো বড় প্রকল্পের কাজে ঝুঁকি নিয়ে মালামাল বহন করলেও রাস্তা মেরামতে কারো ভ্রুক্ষেপ নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে বড় প্রকল্পের কাজের জন্য সহায়ক মালামাল আনা-নেয়ার কাজ করা হয় রাস্তাটি দিয়ে। এখানে ভারী যানবাহন চলাচল করায় রাস্তাটির অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। পিচঢালা রাস্তাটির অধিকাংশ জায়গায়ই পিচ উঠে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে ছোটখাট দুর্ঘটনাও ঘটছে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কাও তৈরি হয়।

jagonews24

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন জানান, এ রাস্তাটি অনেক দিনের পুরনো। রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের ইট-সুরকির ব্যবহার হয়েছিল বিধায় কাজ শেষ হওয়ার পরপরই খানাখন্দ তৈরি হয়। বৃষ্টি এলে রাস্তার মাঝে জমে থাকে পানি। এসব বড় বড় গর্তে ছোট ছোট যান চলে অনেক কষ্টে, পথচারীরাও ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের জন্য বড় প্রকল্প হবে, এটা সবার জন্য ভালো। এর মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হবে, শিল্প গড়ে উঠবে, মানুষের কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু একটা উন্নয়ন করতে গিয়ে অন্যদিকের ক্ষতি হোক এটাও চাই না। মাতারবাড়ি প্রকল্পের মালামাল বহনে রাজঘাট ব্রিজ থেকে সাইরাটিল রাস্তাই মূল ভরসা। এতে অনেক পুরনো রাস্তাটির অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, আমরা এটা মেরামতের দাবি জানাই।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে মাতারবাড়ি প্রকল্পের এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের হেভিওয়েট মালামাল সমুদ্রপথ হয়ে প্রকল্প এলাকায় আসে। স্থানীয়ভাবে বালু, ইট, রড আসে। রাস্তাটির অবস্থা আগে থেকেই খারাপ ছিল।

jagonews24

এ বিষয়ে মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন মালামাল এ রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রাস্তার উন্নয়নে তারা কোনো কাজ করে না। আমরা রাস্তার উন্নয়ন করি, আর তারা নষ্ট করে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে মোট খরচ হচ্ছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তার মধ্যে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি তিন লাখ টাকা। বাকি সাত হাজার ৪৫ কোটি টাকা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার ও সিপিজিসিবিএল। প্রকল্পটি ২০২৪ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

jagonews24

কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) আওতায় বাস্তবায়নাধীন এই বিদ্যুতের প্রকল্পে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট এবং জুলাইয়ে দ্বিতীয় ইউনিট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ওয়ারেন্টি পিরিয়ড সমাপ্তির লক্ষ্য নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে।

ইএআর/এমএএস/পিডি/সায়ীদ আলমগীর/এসএইচএস/এইচএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]