কাউকে জোর করে টিকা দেয়া হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩৪ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২১

কাউকে জোর করে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। রোববার (২৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাকসিনের (টিকা) বিষয়ে অনেক কথাবার্তা আসে, আমরা জানি। একটা কথা আমরা স্পষ্ট বলতে চাচ্ছি, ভ্যাকসিন নেয়াটা মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। বাংলাদেশে কাউকে ভ্যাকসিন জোর করে প্রয়োগ করা হবে না। ভ্যাকসিন স্বাধীনভাবে নেবে। বিশ্বের প্রায় সর্বত্রই একই অবস্থা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে যে ভ্যাকসিন আছে, সেটা অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি আবিষ্কার করেছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানি এই ভ্যাকসিনের মালিক, ভারতে শুধু এটার উৎপাদন হচ্ছে। তাদের উৎপাদন করার বড় একটি সুবিধা রয়েছে। বিভিন্ন দেশে এই ভ্যাকসিন ওখান (ভারত) থেকে পাঠানো হচ্ছে।’

টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘অনেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলছেন। প্রত্যেকটি ভ্যাকসিনের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। ওষুধেরও থাকে। অনেক ওষুধ আছে অনেকের স্যুট করে না, এলার্জি হয়। এই ওষুধের যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে না এটা আমরা বলতে পারি না। তবে যতুটুকু শুনেছি, এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব সামান্য। একটু মাথাব্যথা বা জ্বর হয়।’

ভারতে ইতোমধ্যে লাখ লাখ মানুষকে এই ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউকে-তেও (যুক্তরাজ্য) অনেক লোককে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও এই ভ্যাকসিন নিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিনের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন হবে। আনন্দের বিষয় হলো বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা প্রত্যেকেই আবার প্রস্তাব দিয়েছে ভ্যাকসিন কেনার জন্য। তারা অর্থায়ন করতে চায়। সেটা প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ তারা আমাদের অফার করেছে। এখন বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত তারা কতটুকু গ্রহণ করবে বা করবে না। বাংলাদেশের প্রতি তাদের অনেক আস্থা। সেই আস্থার ফলই আমরা এসব প্রস্তাবের মাধ্যমে পাচ্ছি।’

ভ্যাকসিন নিয়ে অনেকের মধ্যে আস্থাহীনতা আছে, আস্থা তৈরিতে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে— এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যত ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়েছে, তার মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সবচেয়ে কম। সেই দিক বিবেচনায় আমরা মনে করি, এটা নিরাপদ। সায়েন্টিফিক ফর্মুলাও বেশ নিরাপদ। যেখানে প্রয়োগ করা হয়েছে সেখান থেকেও আমরা খবর পেয়েছি, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব কম হয়েছে। ভালো আছে লোকজন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা ভ্যাকসিন নেবেন। করোনাভাইরাসের এই যুদ্ধে ইনশাআল্লাহ আমরা জয়লাভ করব। পার্শ্ববর্তী অনেক দেশ এখনও ভ্যাকসিন আনতে পারেনি। বলতে পারেন, আমরা প্রথম ভ্যাকসিন এনেছি।’

বিদেশি গণমাধ্যমে খবর এসেছে, ট্রায়ালের জন্য ভারত এই টিকা পাঠিয়েছে— এ বিষয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘অনেকে অনেক কথা বলতে পারে। ভারত ও লন্ডনে বহু লাখ লোককে এই ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে, তাই ট্রায়াল করার আর প্রশ্ন জাগে না। ৩ কোটি ভ্যাকসিন ট্রায়ালের জন্য প্রয়োজন হয় না। আমরা এটা (ভ্যাকসিন) লোককে দেয়ার জন্য জেনেশুনেই এনেছি।’

মানুষের আস্থার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে প্রথম ভ্যাকসিন নেয়ার কথা বলেছেন ডা. জাফরুল্লাহ— এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাফরুল্লাহ সাহেব কী বলেছেন সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। উনার যদি ভ্যাকসিন প্রয়োজন হয়, আমরা তাদের ভ্যাকসিন দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেব। ডব্লিউএইচওর (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) নীতিমালা অনুযায়ী ভ্যাকসিনটা আমরা দেব। ভ্যাকসিন নিয়ে কারো বিদ্রুপ করা ঠিক না। জীবন রক্ষার করার জন্য আমরা ভ্যাকসিন দিচ্ছি, এখানে কোনো রাজনীতি নয় বা ফান করার কোনো বিষয় নয়।’

টিকা নেয়া প্রথম ২৭ জনের মধ্যে কোনো ভিআইপি বা রাজনীতিবিদ থাকছেন কি-না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘যাদের টিকা দেয়া হবে তাদের বেশিরভাগই স্বাস্থ্যকর্মী। বাইরের দু-একজনও থাকতে পারেন। স্বাস্থ্যকর্মীদেরও জোর করে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে না।’

জাহিদ মালেক আরও বলেন, ‘ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারদের (সম্মুখসারির যোদ্ধা) প্রথমে টিকা দেয়া হবে। অনেকেই ভ্যাকসিন চাচ্ছেন, অনেক সিনিয়র ব্যক্তি যাদের আপনারা নাম জানার ও শোনার চেষ্টা করছেন, তাদের অনেকেই চাচ্ছেন। আমরা তাদের দিচ্ছি। এরপর আমরা সকলে নেব, আমরাও নেব।’

আরএমএম/এমএসএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]