ভোটের দিনে খোলা অফিস, ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২১

এবারই প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী ভোটাররা সাধারণ ছুটি পাচ্ছেন না। নির্বাচন কমিশন বলছে, এমন ছুটির ‘প্রয়োজন’ নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছে নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি।

এর প্রতিবাদ জানিয়ে চসিক নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রে যেতে না পারে এবং কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বেশি না হতে পারে সেজন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নির্বাচনী এলাকায় সরকারি ছুটি দেয়া হয়নি।’

রোববার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে নগরের ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা, ২০ নম্বর দেওয়ান বাজার, ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ডে ধানের শীষের গণসংযোগকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এর আগে গতকাল শনিবার (২৩ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকছে না। এদিন সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলবে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেগুলো বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের সুবিধার্থে অন্যান্য দিনের মতো যানবাহনও চলবে।

এ বিষয়ে আজ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘শনি বা বৃহস্পতিবার নির্বাচন দিয়ে আমরা আশা করি যে, ছুটি পেয়ে ভোটাররা ভোট দেবেন। কিন্তু দু-তিনদিনের ছুটি পেয়ে ভোটাররা আর ভোট দিতে যান না। এ কারণে আমরা ছুটির ঘোষণা রাখিনি। আমরা এখন মাঝখানে (ভোটের দিন) রাখি। এখন আমরা বলছি, যারা বিভিন্ন অফিস আদালতে কর্মরত থাকবেন তাদের যেন ভোট দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়।’

এ সময় তিনি জানান, নির্বাচনের দিন ট্রাক ও মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। তবে মাস ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (গণপরিবহন) চালু থাকবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার বক্তব্যের দুই ঘণ্টা পরেই বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন এই অভিযোগ করেন।

শাহাদাত আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম শিল্প ও ব্যবসা-বান্ধব নগরী, এখানে হাজার হাজার কলকারখানায় লাখ লাখ শ্রমিক কাজ করছে। ভোটের দিন ভোটাররা তাদের কর্মস্থলে না গিয়ে ভোটকেন্দ্রে কিভাবে যাবে? এতে করে ভোটার উপস্থিতি কমে যাবে। এ সুযোগে সরকারি দল তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নগরীতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শুনতে পাচ্ছি- নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেস্ট হাউজগুলোতে চট্টগ্রামের আশপাশের এলাকার বহিরাগতরা অবস্থান করছে। এমনিতে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে যেকোনো নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা নেই। ভোটাররা কেন্দ্র বিমুখ হয়ে পড়ছে। ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। সেখানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা না করে সরকার ভোটারদের কেন্দ্র বিমুখ করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মো. মিয়া ভোলা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আব্দুল মান্নান, সদস্য হাজী মো. আলী, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, গাজী সিরাজ উল্লাহ, বক্সিরহাট ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী অ্যাড. তারিক আহমেদ প্রমুখ।

আবু আজাদ/এআরএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]