দান-কর্জের অর্থে মাঠে রেজাউল, ৪৮ মামলা নিয়ে শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৩ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২১

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক ঝাঁক তারকা। তাদের এই দৌড়-ঝাঁপে বেশ আলোচনায় এসেছে চসিক নির্বাচন।

এসব তারকাদের চট্টগ্রামে যাওয়া এবং থাকার খরচ কে বহন করছে, সে তথ্য জানা যায়নি। তবে রেজাউল করিম যে সেই খরচ বহন করতে পারবেন না, তা স্পষ্ট। কারণ, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেয়া হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, তার হাতে নগদ টাকা আছে মাত্র এক লাখ। চসিক নির্বাচনে তিনি মোট ২০ লাখ টাকা খরচ করবেন। যার মধ্যে দেড় লাখ টাকা নিজের, বাকি সাড়ে ১৮ লাখ টাকা দান ও কর্জ। এসব টাকা তিনি খরচ করবেন নির্বাচনী প্রতীক, মাইকিং, পথসভা, ব্যানার, হ্যান্ডবিল, লিফলেট, ক্যাম্পসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে।

মিডিয়া প্রচারে তার বরাদ্দ শূন্য। দেশের প্রখ্যাত ব্যক্তিদের নির্বাচনী এলাকায় নিয়ে খরচের কোনো খাত তিনি দেখাননি। হলফনামায় ইসিকে মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম বলেছেন, আপ্যায়ন বাবদ এই নির্বাচনে মাত্র সাড়ে ৭ হাজার টাকা খরচ করবেন।

তিনি আরও বলেছেন, পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। চট্টগ্রামে তার মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাড়ি/এপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে তার বছরে আয় ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা। আর তার ফার্মের শেয়ার থেকে বছরে আসে ২০ হাজার ১০০ টাকা। বছরে তার মোট আয় ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকা। ব্যাংক থেকে তিনি কোনো ঋণও নেননি।

রেজাউল করিমসহ চসিক সিটি নির্বাচনে মোট সাতজন মেয়রপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই সিটি নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শাহাদাত হোসেন।

ইসিতে জমা দেয়া শাহাদাত হোসেনের হলফনামা থেকে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ৪৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি তদন্তাধীন, দুটি স্থগিত এবং ৪৪টি বিচারাধীন। এসবের বাইরে তিনি একটা মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন।

হলফনামা থেকে আরও জানা যায়, এমবিবিএস পাস করা শাহাদাত হোসেন পেশায় চিকিৎসক। বাড়ি এপার্টমেন্ট/দোকান বা অনান্য ভাড়া থেকে বছরে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ২৫ টাকা এবং চিকিৎসা সেবা দিয়ে বছরে ১৭ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা উপার্জন করেন তিনি। তার হাতে নগদ টাকা আছে ১৫ লাখ। তার ঋণ আছে মোট ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৫২ হাজার ৪৪৫ টাকা। তার মধ্যে উত্তরা ফাইন্স ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে ৩ কোটি ২ লাখ ২৫ হাজার, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডে ২৯ লাখ ৮১ হাজার ১৩২ টাকা এবং অন্যান্য ২ লাখ ৪৬ হাজার ৩১৩ টাকা।

এ ছাড়া চসিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবুল মনজুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে খোকন চৌধুরী।

আগামী ২৭ জানুয়ারি (বুধবার) চসিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

পিডি/এসজে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]