শব্দদূষণ ও বন্যপ্রাণী নিধন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৫৩ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২১
ফাইল ছবি

সচিবালয়ের চারপাশসহ সারাদেশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং বন্যপ্রাণী নিধন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই।’ শব্দদূষণ রোধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নিতেও নির্দেশনা দেন তিনি।

চলতি অর্থবছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনায় বুধবার (২৭ জানুয়ারি) আয়োজিত মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শব্দদূষণ রোধে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক’ প্রকল্পের পরিচালক ও পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সচিবালয়ের চারপাশ ও আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকায় নীরব এলাকা বাস্তবায়ন করতে অতি শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

হাতি নিধন রোধ বিষয়ে ‌‘বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও আবাসস্থল উন্নয়ন প্রকল্প’ পরিচালক মিহির কুমার দো বলেন, ‘চলমান প্রকল্পে হাতি নিধন রোধ বিষয়ক কোনো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও বন বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করার জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে, যা অনুমোদিত হলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়ক হবে।’

পরিবেশ মন্ত্রীর এক জিজ্ঞাসার জবাবে ‘ইন্টিগ্রেটিং কমিউনিটি বেইজড এফরেস্ট্রেশন অ্যান্ড রিফরেস্ট্রেশন’ প্রকল্পের পরিচালক ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মাহমুদ হাসান জানান, ‘উপকূলের সর্বাধিক বিপন্ন ৫ জেলার ৮ উপজেলায় ১০ হাজার ৫০০ পরিবারের প্রায় ৬০ হাজার মানুষের জীবিকায়নে জলবায়ু সহিষ্ণু প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হয়েছে।’

তিনি জানান, এ প্রকল্পের আওতায় বন বিভাগের মাধ্যমে ৩৬০টি পুকুরে থ্রি এফ মডেল (ফরেস্ট, ফিস, ফ্রুট) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাধ্যমে ৩৪০টি পরিবারে জলবায়ু সহনশীল কৃষিকাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। ওই পরিবারগুলোতে জলবায়ু সহনশীল মৎস্য প্রদর্শনী খামার স্থাপন এবং ২ হাজার ৫০০টি খানায় হাস, মুরগি, টার্কি পালনের ব্যবস্থাসহ একটি করে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন)মাহমুদ হাসান, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) আহমদ শামীম আল রাজী, অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মো. মিজানুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ) মো. মনিরুজ্জামান, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. এ. কে. এম রফিক আহাম্মদ, বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরীসহ দফতর প্রধান ও বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকরা অংশ নেন।

এমইউ/এসএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]