‘সাধে কি আর ময়লা পানিতে গোসল করি’

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:১৬ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

‘তিনদিন ধরে গোসল করি না বাবা, সরকারি গোসলখানায় গোসল করতে লাগে ১৫ টাকা। এই টাকা পামু কই। ১৫ টাকা অইলে একটা বাটারবন আর এক কাপ চা খাইতে পারি। সাধে কি আর এই ময়লা কাঁদা পানিতে গোসল করি।’

সত্তোরোর্ধ্ব বৃদ্ধ ফারুক মিয়া। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। প্রায় সব দাঁত পড়ে গেছে। সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শুকনো লেকের ময়লা কাঁদাযুক্ত গোড়ালি সমান পানিতে দাঁড়িয়ে প্লাস্টিকের বাটিতে পানি তুলে একটি গামছা কোমরে জড়িয়ে গোসল করছিলেন। শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পেরে দুবার আছাড়ও খান। পানি থেকে যখন উঠে আসছিলেন তখন কাঁপছিলেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত জাগো নিউজের এ প্রতিবেদক। তার কাছে এমন পানিতে গোসল করার কারণ জানতে চাইলে তিনি এ সব কথা বলেন।

সংস্কারের জন্য সপ্তাহখানেক আগে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ বা গ্লাস টাওয়ার সংলগ্ন লেকের পানি ছেড়ে দেয়ার ফলে এক সময়ের পরিষ্কার টলমলে পানির লেকটি এখন ধুধু মরূদ্যান। লেকজুড়ে শুধু পাথর আর পাথর। কোথাও বা সামান্য পানি থাকলেও সেখানে পানির নিচে দীর্ঘদিন পাথর ও কাঁদামাটি থাকার কারণে পানি ময়লাযুক্ত হয়ে পড়েছে।

jagonews24

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ফারুক মিয়া জানান, এক সময় কারওয়ানবাজারে মিনতির কাজ করতেন। তখন সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে কিডনি সমস্যাসহ নানা জটিল অসুখে হাত পা ফুলে যায়। কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। সংসারের চাকা সচল রেখে স্ত্রী ছেলে-মেয়ের মুখে আহার তুলে দিতে দিন রাত পরিশ্রম করে রোজগার ও খরচ করতেন। ছেলে-মেয়েরা এখন আয় রোজগার করলেও তাকে দেখেন না।

ফারুক মিয়া বলেন, তার নিজের কোনো আয় নেই। লোকজন সাহায্য দিলে কিনে খান না হলে উপোষ থাকেন।

তিনি বলেন, টাকার অভাবে তিন চারদিনও গোসল করতে পারেননি। যৎসামান্য টাকা সাহায্য পেলে রুটি ও কলা কিনে খান। আগে লেকে পানি থাকায় এখানে নিয়মিত গোসল করতেন। কিন্তু এখন লেকের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় গোসল করা নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। অনেকটা নিরুপায় হয়েই ময়লা পানি জেনেও গোসল করছেন বলে জানান তিনি।

এমইউ/জেডএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]