‘দুষ্ট লোকেদের কারণে আর্থিক খাতে বেশিদিন সেবা দিতে পারেননি খালেদ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫৮ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এ শোক প্রকাশ করেন। ‘ইব্রাহিম খালেদ ভাইও চলে গেলেন!’ শিরোনামে ড. আতিউর রহমান তার পোস্টে স্মৃতিচারণাও করেছেন।

পোস্টে যা লিখেছেন ড. আতিউর রহমান

‘আমরা বুঝতে পারছিলাম তাকে আর ধরে রাখা যাবে না। তবুও মন থেকে এই সত্যিটি মেনে নিতে পারছিলাম না। সর্বক্ষণ তার ছোট ভাই মোহাম্মদ খালেদের সাথে যোগাযোগ রাখছিলাম। কভিড থেকে রেহাই পেলেন। এক-দু’দিন হাসপাতালে রেখেই বাসায় নেবার কথা। তাকে সেবাযত্ন করবেন সেরকম একজন প্রশিক্ষিত নার্সও ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা ভাবি এক, আর বাস্তবে ঘটে অন্য কিছু। শেষ পর্যন্ত আমাদের এক ভয়াল শূণ্যতায় ফেলে রেখে একা একাই চলেই গেলেন না ফেরার দেশে। এই বাস্তবতা যে কী কষ্টের তা বোঝাই কি করে? তিনি ছিলেন আমার আত্মার আত্মীয়। আমার বড় ভাই। আমার দুঃখের ও সুখের সাথী। কভিড আসার আগ পর্যন্ত এমন কোনো সপ্তাহ নেই যে তিনি অন্তত একবার আমাদের বাসায় আসেননি। আর টেলিফোনে তো যোগাযোগ ছিলই।
‘ব্যাংকিং খাতের বাইরেও তিনি আমাদের নানা উদ্যোগের সাথে যুক্ত ছিলেন। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব নেবার পর আমার প্রতিষ্ঠিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন সমন্বয় ও সমুন্নয় দেখে রাখতেন। ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের সভাপতির দায়িত্ব মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পালন করে গেছেন। তার পরিচালিত কচিকাঁচার মেলার সাথে ছিল আমার প্রাণের সম্পর্ক। তিনি সত্য, সুন্দর এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বদা আপোষহীন ছিলেন।’

‘বঙ্গবন্ধুকে প্রাণের চেয়েও ভালোবাসতেন। বাংলাদেশের কপালে যখন অন্ধকার নেমে এসেছিল, তখনও তিনি পূবালী ব্যাংকে তার অফিসে বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙ্গিয়ে রেখেছিলেন। দায়িত্ব শেষ করে সেই ছবি সযত্নে বাসায় নিয়ে এসেছিলেন। “দুষ্ট” লোকদের কারণে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারের আমলেও আর্থিক খাতকে আরও বেশি দিন সেবা করতে পারেননি। যে ক’দিন দায়িত্ব ছিলেন আমার সাথে কতো বার যে গ্রামে গিয়েছেন, প্রকাশ্যে কৃষিঋণ দেবার জন্যে সে হিসেব নাই বা দিলাম। তার মনের দুঃখ আমি জানতাম। সে সব কষ্টের কথা আজ নাই বা বল্লাম। কতো স্মৃতি, কতো কথা আজ মনে ভাসছে। পেশাদারি কাজে শেষ বার তার সাথে বসছিলাম বঙ্গবন্ধুর ওপর একটি সাক্ষাৎকার নেবার উপলক্ষে।’

‘এই দুর্ভাগা দেশে এমন ভালো এবং ন্যায়পরায়ণ মানুষ খুব বেশি জন্মায় না। আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির ভুবনের উজ্জ্বল প্রদীপগুলো একে একে নিভে যাচ্ছে। বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের এই শূণ্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তার আত্মা শান্তিতে ঘুমাক সেই প্রার্থনাই করছি। পরিবারের সদস্য এবং তাঁর অসংখ্য গুণগ্রাহীদের জন্য রইল গভীর সমবেদনা।’

এসএম/এএএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]