গ্রামীণ বিচারে মানুষ সন্তুষ্ট নয় : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৮ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

গ্রামীণ বিচারব্যবস্থায় মানুষ সন্তুষ্ট নয়, এ বিচারব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষ আস্থা হারিয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। এজন্য গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নগরের সার্কিট হাউজে গ্রাম আদালত আইন ও নারীবান্ধব গ্রাম আদালত সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিতকরণ সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত নামে সরকারের যে একটি আদালত আছে সে বিষয়েই গ্রামের মানুষ জানে না। বিচারব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হলেও গ্রামীণ বিচারব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের হতাশা আছে। এজন্য সরকার গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়নই টেকসই উন্নয়ন নয়। বিচার বিভাগের ত্রুটির কারণে গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষের বিচার পেতে বিলম্ব হয়। সেক্ষেত্রে গ্রাম আদালত কার্যকর ভূকিকা রাখছে। আইনজীবী ছাড়া সালিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে গ্রাম আদালত।’

চট্টগ্রাম জেলা স্থানীয় সরকার উপপরিচালক বদিউল আলমের সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূরজাহান আক্তার সাথীর সঞ্চালনায় সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী আক্তার, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক সাঈদ হাসান, আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. আজিজুল হক নিউটন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায় প্রকল্প) অগ্রগতি ও বাস্থবায়নের তথ্যচিত্র পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন ডিস্ট্রিক ফেসিলেটেটর (জেলা সমন্বয়কারী) উজ্জ্বল কুমার দাস চৌধুরী।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম জেলার পাঁচটি উপজেলার ৪৬টি ইউনিয়নে এ প্রকল্পের আওতায় সাধারণ জনগণ সেবা পাচ্ছে। জেলার সব উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আছে। সারাদেশে আট বিভাগের ২৭টি জেলার ১২৮টি উপজেলার ১ হাজার ৮০টি ইউনিয়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। তাদের মামলা নিষ্পত্তির হার ৯৭ শতাংশ।

তিনি জানান, ১৯৭৬ সালের গ্রাম আদালত অধ্যাদেশ অনুসারে ২০০৬ সালে গ্রাম আদালত আইন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ আইনে যৌতুক মামলা নিষ্পত্তির বিধান নেই। দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় নারীঘটিত বিষয় হলে বিচারিক প্যানেলে নারী সদস্য রাখার নির্দেশনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

উজ্জ্বল কুমার দাস আরও জানান, গ্রাম আদালতের বিচারাধীন মামলার শুনানি সাত দিনের বেশি রাখার বিধান নেই। মামলা দায়েরের ১৫ দিনের মধ্যে মামলার শুনানি করার বিধান রয়েছে। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট গ্রাম আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রকাশ্যে সিদ্ধান্ত দেয়ার বিধান রয়েছে।

ইএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]