ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বাসদ নেতা ২ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৭ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ-মার্কসবাদী) পাঠচক্র ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য ও শ্রমিক নেতা রুহুল আমিনকে শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে খুলনার খালিশপুরের বাড়ি থেকে তুলে নেয় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

সারারাত হেফাজতে রাখার পর শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পরে তাকে খুলনার আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে শুনানিতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বর্তমানে তাকে খালিশপুর থানা হাজতে রাখা হয়েছে।

এদিকে রুহুল আমিনসহ ঢাকায় মশাল মিছিল থেকে গ্রেফতার করা সব ছাত্রনেতার নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বাসদ কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরাম।

গ্রেফতারের বিষয়ে খুলনার ছাত্র-শ্রমিক-জনতা-ঐক্য পরিষদের সদস্য মো. হাসিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) খুলনার খালিশপুর গোলচত্ত্বরে বিকেলে পাটকলের একটা সমাবেশ ছিল। সেখানে রুহুল আমিনকে দাওয়াত দেয়া হয় এবং তিনি বক্তৃতা করেন। সমাবেশ শেষে তিনি বাসায় যান। কিছু সময় পরে ৬ জন ডিবি কর্মকর্তা তার বাসায় যান। তারা রুহুলকে জানান, তার সঙ্গে জেলা প্রশাসক কথা বলবেন। এ কথা বলে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসে ডিবি। তবে বাইরে বেরিয়ে দেখা যায়, ৩০-৩৫ জনের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তার সঙ্গে দোলন নামে আরেকজনকে ধরে নিয়ে যায় তারা।’

jagonews24

হাসিবুর রহমান আরও বলেন, ‘দোলনকে রাত দেড়টার দিকে ছেড়ে দেয়। আর রুহুল ভাইয়ের বিষয়ে মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে রাতে কিছু বলেননি তারা। শনিবার সকালে জানানো হয়, রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। দুপুর ১টার দিকে খুলনার আদালতে তাকে চালান দেয়া হয়। সেখানে শুনানি শেষে তাকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।’

রুহুল আমিনসহ গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে এবং লেখক মুশতাক হত্যার প্রতিবাদে বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের উদ্যোগে রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাবেশে বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে চূড়ান্ত ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে হাতিয়ার করে প্রতিবাদী মানুষের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের সমালোচনা করায় লেখক মুশতাক আহমেদকে গ্রেফতার করে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। মুশতাক হত্যার প্রতিবাদে দেশের মানুষ যখন রাজপথে নেমেছে, তখন সরকার আরও হিংস্র হয়ে উঠেছে। পুলিশ ঢাকায় ছাত্রদের প্রতিবাদ মিছিলে হামলা করে অনেক নেতাকর্মীকে আহত করেছে, ছাত্রনেতাদের গ্রেফতার করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে খুলনার পাটকল আন্দোলনের নেতা রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ দু’দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।’

রুহুল আমিনসহ গ্রেফতারকৃত সব নেতাকর্মীদের মুক্তি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও ফ্যাসিবাদী শাসন অবসানের লক্ষ্যে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার জন্যে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী।

পিডি/এএএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]