‘দুর্নীতিবাজদের নিরাপত্তার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’

দেশের যত দুর্বৃত্ত, লুটেরা, দুর্নীতিবাজ রয়েছে তাদেরকে নিরাপত্তা প্রদানের জন্যই এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও শাহবাগে মশাল মিছিলে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে প্রতিরোধ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে অংশ নেয় বিভিন্ন পেশার মানুষ। সমাবেশের সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক মেঘমল্লার বোস।

সমাবেশ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও শাহবাগে মশাল মিছিলে গ্রেফতারকৃত ছাত্রনেতা নজির আমিন চৌধুরী জয়, তামজীদ হায়দার চঞ্চল, জয়ন্তী চক্রবর্তী, নাজিফা জান্নাত, তানজিম রাফি, আকিফ আহমেদ, আরাফাত সাদ ও শ্রমিকনেতা রুহুল আমিনের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘দুর্বৃত্ত ও লুটেরাদের রক্ষা করার জন্য সরকার নানাবিধ আইনি এবং বে-আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন না থাকলে এ সরকার নির্যাতক বা নিপীড়কদের থেকে আলাদা হয়ে যাবে। এজন্য তাদের নিরাপত্তার জন্যই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।’

jagonews24

তিনি বলেন, ‘আসল কথা হলো সে (প্রধানমন্ত্রী) নিপীড়ক। দুর্বৃত্তদের রক্ষক এবং সেক্ষেত্রে সুষ্ঠু ভোটের ব্যবস্থা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিলে তার অসুবিধা। তাই যারা হাজার কোটি টাকা মেরে দেয় সাপোর্ট দেয়ার জন্য তার দরকার হয়। এসব অন্যায় জুলুমের জন্য আমাদের সংগঠিত হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। এদেশে আন্দোলন ছাড়া কোনো কিছু হয় না। দেশের এমন অবস্থা, আজ শিক্ষার্থীদেরকে তাদের পরীক্ষার জন্য আন্দোলন করতে হয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান এম এম আকাশ বলেন, ‘সাতদিন আগেও মুশতাক সুস্থ ছিল, এটা তার স্ত্রী জানিয়েছেন কিন্তু হঠাৎ তার হৃদরোগে মৃত্যু হলো। এটা হৃদরোগে হলো নাকি অন্য কারণে হলো তা তদন্ত করে বের করা আবশ্যক।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই ডিজিটাল আইনের দুটি দুর্বলতা আছে, প্রথম দুর্বলতা হচ্ছে এর বেশিরভাগ ধারাই হলো জামিনের অযোগ্য, আমরা জানি জামিনের অযোগ্য অপরাধের কতগুলো বৈশিষ্ট্য থাকে। যেমন নারী-শিশু নির্যাতনের আসামিকে আমরা জামিন নাও দিতে পারি বা চরম দুর্নীতি পরায়ণ যে পালিয়ে বাইরে যেতে পারে তাকে জামিন নাও দিতে পারি। কিন্তু এরাও জামিন পেয়ে যাচ্ছে শুধু জামিন দেয়া হচ্ছে না সাইবার আইনের কয়েকটি বিশেষ ধরনের অপরাধকে। সেই অপরাধগুলো কী? বলা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ চেতনার অপমান, বঙ্গবন্ধুর অপমান, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলে এই অপরাধগুলো জামিনের অযোগ্য। কিন্তু এটি করে কি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকলো? এমনভাবে আপনি আইনটি প্রয়োগ করলেন যাতে ১৩টি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বললেন, আপনি এটি কী করলেন। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তো আপনারাই নষ্ট করেছেন, আপনারাই ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম করেছেন। এটা তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নয়। ডিজিটাল আইনের ধারাগুলো বিশেষ করে জামিনের অযোগ্য ধারাগুলো পর্যালোচনা করা উচিত।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের নামে একটি সরকার জনগণের ভোট ছাড়া আমাদের উন্নয়নের কলা দেখিয়ে বলবে এটাই বাংলাদেশ। স্বৈরাচারের পতন তখনই ঘটে যখন আমরা দলীয় সংকীর্ণতা পরিহার করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করকে পারি। ভোট ছাড়া ক্ষমতায় থাকা মানে নাগরিকদের অপমান করা। যদি আপনি (শেখ হাসিনা) সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধ মানেন, যদি আপনি বাক স্বাধীনতা মানেন, তাহলে কোনো কারণ দেখিয়ে ভোট ছাড়া ক্ষমতায় থাকাকে বৈধ করতে পারেন না। আজকে অনেক লোক রাষ্ট্র ক্ষমতার জোরে ব্যাংক এবং হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছেন। সেসব লোকেরা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে লেখকদের ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। তারা ব্যক্তিগত শত্রুতা হিসেব-নিকেশ করছেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে এবং তারা জামিন চান না বলে মুশতাকের ছয়বারের জামিন আটকে রাখা হয়েছে। এ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে বাতিল করতেই হবে।’

রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই আইন ভালো কী মন্দ এটা দৃষ্টিগত সমস্যা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এটা খুব প্রয়োজনীয় আইন। কিন্তু আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন বাংলাদেশ চান, এখানে প্রধানমন্ত্রী ঠিক করবেন আইন ভালো কী মন্দ নাকি আইনমন্ত্রীকে পর্যালোচনা করে বলতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গিতে আইন দেখতে হবে নাকি জনগণের দৃষ্টিতে আইনকে বিবেচনা করতে হবে।’

এছাড়া অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রেহনুমা আহমেদ, চলচিত্র নির্মাতা কামাল আহমাদ সাইমন, বাংলাদেশ বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবির, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মহিউদ্দিন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অর্পি জ্যেতি প্রমুখ।

এমআরআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]