টার্গেট করে ধনী পরিবারের শিশুদের অপহরণ করতেন তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৯ পিএম, ০১ মার্চ ২০২১

আলী হোসেন নামে ছয় বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে অপহরণ করে চট্টগ্রামে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা।

অপহরণের পাঁচ দিন পর রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে র‍্যাব-৭ এর সহায়তায় চট্টগ্রামের হাটহাজারীর সেকেন্দার কলোনি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার ও অপহরণ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৪। র‍্যাবের দাবি, অপহরণকারীরা টার্গেট করে ধনী পরিবারের শিশুদের অপহরণ করতেন।

সোমবার (১ মার্চ) রাজধানীর মিরপুরে র‍্যাব-৪ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. জাকির হোসেন (২১) ও শান্ত মিয়া (২৯)।

jagonews24

তিনি বলেন, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকা থেকে শিশু মো. আলী হোসেন অপহৃত হয়। পরে অপহৃত শিশুটিকে রাজধানীর বাইপাইল ও সায়েদাবাদ হয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনার পরদিন অপহরণকারী চক্র মোবাইল ফোনে শিশুটির পিতা-মাতার কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এ সময় অপহরণকারীরা ১৫ লাখ টাকা দেয়ার জন্য দুদিন সময় দেয় অন্যথায় অপহৃত শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, গ্রেফতার অপহরণকারী মো. জাকির হোসেন ভিকটিমের বাবার টিনশেড বাসার ভাড়াটিয়া ও অপহরণকারীরা স্থানীয় একটি গার্মেন্টস কারখানায় প্যাকিং ম্যান হিসেবে কাজ করতেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, চক্রটির মূলহোতা পলাতক আসামি মো. সোহান গ্রেফতার আসামিদের সঙ্গে মুক্তিপণের টাকা ভাগাভাগির চুক্তি করে শিশুটিকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করেন। অপহরণের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পলাতক সোহান ভিকটিম শিশুটিকে চিপস ও খেলনা কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করেন। এরপর গ্রেফতারদের সঙ্গে মিলিত হয়ে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে ও পরে বাসযোগে চট্টগ্রামে গ্রেফতার জাকিরের চাচার বাসায় নিয়ে আটক রাখে।

একপর্যায়ে চক্রের মূলহোতা পলাতক সোহান ভিকটিমের বাবার সঙ্গে মুক্তিপণের বিষয়ে দরকষাকষি করে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেয়।

গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাব জানায়, গ্রেফতাররা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অপহরণসহ নানা অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত।

টিটি/এআরএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]