সাতকানিয়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৪:১২ পিএম, ০৩ মার্চ ২০২১

গৃহকর্মী জমিরকে মাঝেমধ্যে বকাঝকা করতেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হক (৯০)। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে গৃহকর্তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ২৫ বছর বয়সী এ তরুণ। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বেছে নেন এমন একটি দিন যেদিন কয়েকজন কর্মচারী ছাড়া বাড়ির সব সদস্য ছিলেন বাইরে।

সন্দেহ এড়াতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড, ছুরি এবং নিহত ও নিজের মোবাইল ফোন ফেলে দেন জমির। তারপর ছুরি দিয়ে নিজের পা হালকা কেটে, হাত-পা ও মুখ বেঁধে পড়ে থাকেন আব্দুল হকের নিথর দেহের পাশে।

পরদিন সকালে স্থানীয়দের খবরে আব্দুল হকের মরদেহের পাশাপাশি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জমিরকে উদ্ধার করে সাতকানিয়া থানা পুলিশ। কিন্তু আচরণে সন্দেহ হলে মঙ্গলবার (২ মার্চ) দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

প্রথমে অস্বীকার করলেও টানা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে খুনের ঘটনার বর্ণনা দেন জমির।

তার দেয়া স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আগের দিন বেতন নিয়ে সামান্য কথা-কাটাকাটি ও আগের জমানো ক্ষোভের জেরে ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে লোহার রডের ধারালো অংশ দিয়ে কুপিয়ে আব্দুল হককে হত্যা করেন জমির।

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির পাশের পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার রড, ছুরি ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনার তদন্তে নেতৃত্ব দেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকু।

জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘সাতকানিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান বয়োবৃদ্ধ আব্দুল হক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নামে পুলিশের কয়েকটি দল। জমিরকেও সন্দেহের তালিকায় রেখে নজরদারির মধ্যে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পরদিন (১ মার্চ) জমিরকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে সাবেক এই চেয়ারম্যানকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার কথামতো আমরা বাড়ির পুকুর সেচ দিয়ে লোহার রড, ছুরি ও তিনটি মোবাইল উদ্ধার করি।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় গতকাল একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় আজ (৩ মার্চ) জমিরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। যেহেতু আসামি অপরাধের কথা স্বীকার করেছে, তাই আমরা তাকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করব। জবানবন্দি না দিলে রিমান্ডের আবেদন করব।’

এদিকে, দুঃখ প্রকাশ করে নিহতের ছেলে মো. মঈন উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘জমিরকে আমার আব্বা খুব স্নেহ করতেন। তার বাড়ি নির্মাণের জন্য তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। আবার গত সপ্তাহে আমাদের ব্রিক ফিল্ড থেকে ৭ গাড়ি ইট দেন। তার যখন যা প্রয়োজন হতো আব্বা দিতেন।’

‘কেন সে এভাবে আমার বৃদ্ধ বাবাকে খুন করল বুঝতে পারছি না। ঘটনার দিন বাড়িতে আমার বাবা, একজন গৃহকর্মী, একজন গৃহপরিচারিকা ও একজন দারোয়ান ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এলাকার লোকজনের মাধ্যমে আমার বাবাকে হত্যা করার বিষয়টি জানতে পেরেছি।’

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সহায়তার জন্য পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোমবার (১ মার্চ) সকালে সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া চেয়ারম্যান পাড়ায় নিজ বাসা থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আবদুল হক কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

তার চার ছেলে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় থাকেন। মেয়েরা বিবাহিত। আব্দুল হক ও তার পরিবারের সদস্যরা সবসময় গ্রামের বাড়িতে থাকতেন না। সেখানে গৃহপরিচারক ও পরিচারিকা থাকেন। বেশ কিছুদিন ধরে তার স্ত্রী চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আবু আজাদ/এসএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]