রাজধানীতে হুজির অপারেশন শাখার প্রধানসহ তিনজন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০২ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২১
হুজির তিন সক্রিয় সদস্য

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি) অপারেশন শাখার প্রধানসহ তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরা হলেন- মো. মাইনুল ইসলাম ওরফে মাহিন ওরফে মিঠু ওরফে হাসান, শেখ সোহান স্বাদ ওরফে বারা আব্দুল্লাহ ও মুরাদ হোসেন কবির।

এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি মাইক্রোফোন, একটি চাপাতি, দুটি ছোরা, ১০টি ডেটোনেটর, ১৭০টি বিয়ারিং লোহার বল, একটি স্কচটেপ, পাঁচ লিটার এসিড, তিনটি আইডি কার্ড ও একটি জিহাদি বই জব্দ করা হয়।

শুক্রবার (৫ মার্চ) দুপুরে জাগো নিউজকে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম।

তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এরা হুজির সক্রিয় সদস্য। তারা মাইনুল ইসলামের নেতৃত্বে হুজি পুনর্গঠন, পূর্ণাঙ্গ শুরা কমিটি প্রস্তুতকরণ, সংগঠনের অর্থদাতা এবং সদস্যদের কাছ থেকে অর্থের জোগান নিশ্চিতকরণ, ব্যাপক হারে সংগঠনের রিক্রুটমেন্টকরণ, অস্ত্র সংগ্রহ, বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ, কারাগারে আটক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের জামিনের ব্যবস্থাকরণ, বান্দরবান-নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় জমি লিজ নিয়ে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। দেশের ৬৪ জেলায় তাদের সংগঠনের বিস্তার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিচয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। তারা কারাগারে আটক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফর ও ২০০০ সালের কোটালিপাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেহেদী হাসান ওরফে আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে গাজী খানের নির্দেশে সাংগঠনিক কাজ করছিলেন।

ইফতেখায়রুল ইসলাম আরও জানান, গ্রেফতার মাইনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ সংগঠন হুজির প্রধান অপারেশন সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। সাংবাদিকতার বেশ ধারণ করে সংগঠনের দাওয়াতি কাজ, অর্থ সংগ্রহ, বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ করে আসছিলেন তিনি। তার পরিকল্পনা ছিল, ঢাকা শহরে বড় ধরনের নাশকতা করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা। ২০১৫ সালে হুজির শীর্ষ নেতা কারাবন্দি মুফতি মঈনউদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি।

অপর গ্রেফতার সোহান স্বাদ সুনামগঞ্জের বিবিয়ানা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকায় মিরপুর বাংলা কলেজে পড়ার পাশাপাশি একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন তিনি। ২০১৬ সালে একুশে বইমেলায় নাশকতার ঘটনায় গ্রেফতার হন স্বাদ। এছাড়া তিনি ২০১৭ সালে বিস্ফোরক মামলায় এবং ২০১৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার হন। জামিনে বের হয়ে মাইনুলের নেতৃত্বে হুজির সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন তিনি। আর গ্রেফতার মুরাদ ব্যবসার আড়ালে হুজির দাওয়াতি কাজ ও বায়তুল মালের দেখভালের দায়িত্ব পালন করতেন।

তাদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। তাদের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ইফতেখায়রুল।

টিটি/এমএসএইচ/এইচএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]