দীর্ঘদিন পর গণভবনের বাইরে প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:২৮ এএম, ০৭ মার্চ ২০২১

‘আমি তো একরকম বন্দি জীবনযাপন করছি। বের হতে পারি না। আমি বের হওয়ার সঙ্গে প্রায় ১ হাজার লোকের সম্পৃক্ততার ব্যাপার। আমার জন্য এতো লোক করোনার ঝুঁকিতে পড়বে, এটা হতে পারে না। এজন্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমি শারীরিকভাবে উপস্থিত হতে পারলাম না। আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

সম্প্রতি একাধিক সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এ অনুভূতি ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ করে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নিজের শিক্ষক জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের হাতে পদক তুলে দিতে না পেরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সরি স্যার। আমাকে ক্ষমা করবেন।’

করোনার কারণে অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হতে না পেরে আক্ষেপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রথম ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক-২০২১’ এবং ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা আন্তর্জাতিক পদক-২০২১’ দেয়া হলো। আমার দুঃখ এখানেই থেকে গেল, আমি নিজে উপস্থিত থাকতে পারলাম না। বিশেষ করে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক রফিকুল ইসলাম স্যারের হাতে পদক তুলে দেয়া, এটা আমার জন্য কত সম্মানের এবং গৌরবের! কিন্তু আমার দুঃখ এখানে, পুরস্কার নিজের হাতে দিতে পারলাম না। স্যার আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন।’

সেদিন তিনি বলেন, ‘আসলে প্রধানমন্ত্রী হলে সব স্বাধীনতা থাকে না। অনেকটা বন্দি জীবনযাপন করতে হয়। সেরকমই আছি। কারণ আমি এক জায়গায় যেতে গেলে আমার সঙ্গে বহু লোক, নিরাপত্তার লোক, অমুক লোক, তমুক লোক, প্রায় হাজার খানেক লোককে রাস্তায় দাঁড় করায়ে নানাভাবে তাদেরকে কাজে লাগায়। তাদের কথা চিন্তা করেই কিন্তু আমি যেতে পারিনি।’

তবে রোববার সকাল ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে সশরীরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে তিনি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন বঙ্গবন্ধু কন্যা ।

এ সময় জাতির পিতার আরেক কন্যা, প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জাতীয় সংসদের অধিবেশন ও ১৫ আগস্টে শ্রদ্ধা নিবেদন ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো অনুষ্ঠানে সশরীরে অংশ নেননি প্রধানমন্ত্রী। সব অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন।

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে ও ২১ ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে সশরীরে অংশ নেননি। তার পক্ষে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব।

এসইউজে/এমএইচআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]