নিজস্ব অর্থায়নে পায়রার রাবনাবাদ চ্যানেলের ড্রেজিং : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৭ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২১
ফাইল ছবি

নিজস্ব অর্থায়নে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইন্টেনেন্স ড্রেজিংয়ের কাজ হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘আমরা নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবো। আগে এটা ছিল জয়েন্টভেঞ্চারে হবে বা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে হবে, এখন আর সেটা হচ্ছে না।’

বুধবার (২৪ মার্চ) দুপুরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আজ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইন্টেনেন্স ড্রেজিং’ কার্যক্রম পিপিপি পদ্ধতির পরিবর্তে সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’

এছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিএডিসি কর্তৃক ভারতের ন্যাশনাল সিড করপোরেশন (এনএসসি) থেকে জেআরও-৫২৪ জাতের ৮০০ মেট্রিক টন মানঘোষিত পাটের বীজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে অতিরিক্ত সচিব জানান।

রিজার্ভ থেকে পায়রা বন্দরে যে অর্থ দেয়া হয়েছে সেখান থেকে প্রাইভেট খাত লোন নিতে পারবে কি-না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা ক্রয় কমিটিতে পায়রা বন্দরের কোনো কিছু অনুমোদন দিইনি। তবে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে একটি প্রস্তাব এসেছিল সেখানে সেটা আমরা নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছি। আগামী মিটিংয়ে যখন প্রকিউরমেন্টের জন্য পায়রা বন্দরের বিষয় আসবে তখন জানা যাবে। আজ শুধু আমরা নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছি যে, সরকারি অর্থায়নে করা হবে। আগে আমরা বিদেশি অর্থায়নে জয়েন্টভেঞ্চারে করবো বলছিলাম কিন্তু বিদেশিরা থাকলে আমাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে অনেক। সেজন্য আমরা সরকারি অর্থায়নে নিজেরাই চেষ্টা করবো।’

তিনি বলেন, ‘আগে কথা ছিল- বিদেশ থেকে টাকা দিলে করা হবে। সেখানে আমাদের প্রজেক্টের খরচ বেড়ে যায়। সেজন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে- যেহেতু আমাদের কাছে অর্থ আছে সেজন্য আমরা নিজেদের টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবো। আমাদের ৪৪ বিলিয়ন রিজার্ভ থেকে কিছু অর্থ এতে এখানে ব্যয় করবো। আপনারা অপেক্ষা করুন- আগামী মিটিং যখন আসবে তখন আপনাদের বিস্তারিত বলা হবে।’

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ‘রিজার্ভ থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ফান্ড পাচ্ছে’ এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতও এ ধরনের ফান্ড পাবে কি-না অথবা সুযোগ দেয়া হবে কি-না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সো ফার কিছু হয়নি, যা হয়েছে সেটা আপনারা জানেন- আমি নিজেও বলেছি এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন, আমরা সে পর্যন্তই আছি। বেসরকারি খাতকে দেয়া যাবে কি-না সেটা আপনারা জানতে পারবেন। আমাদের চাহিদা কত আসছে সেটার ওপর নির্ভর করবে। তবে একটা নীতিমালা তো হবেই। পলিসির ওপর নির্ভর করেই আমরা এটা করবো। যেহেতু নতুন একটি এলাকা আমরা উন্মুক্ত করলাম সেহেতু এটার ওপর কাজ করা বাকি আছে। সরকারি খাতে পাবে এটা ঠিক আছে এখানে কোনো প্রশ্ন নেই।’

নীতিমালার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নীতিমালা হলে আপনারা জানতে পারতেন। আমরা কি অর্থ দিয়ে দিয়েছি? যদি অর্থ দেইও তাহলে সরকারের ডান হাত থেকে বাম হাতে যাচ্ছে। সরকার তো একটাই। এখন সরকারি প্রকল্পে যে অর্থ আমরা ব্যয় করি, বিদেশ থেকে টাকা না এনে নিজের টাকায় যদি করতে পারি এটা মঙ্গলজনক নয় কি? এখানে প্রশ্নের কিছু নেই।’

আইএইচআর/এআরএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]