নিষিদ্ধ স্যাকারিন দিয়ে তৈরি হচ্ছিল পাউডার ড্রিংকস, জরিমানা ৬ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:০০ এএম, ০৯ এপ্রিল ২০২১

নিষিদ্ধ স্যাকারিন, মেয়াদোত্তীর্ণ সাইট্রিক এসিড, মেয়াদোত্তীর্ণ কালার অ্যান্ড ফ্লেভার ও মেয়াদোত্তীর্ণ জেনথন দিয়ে তৈরি হচ্ছিল অরেঞ্জ পাউডার ড্রিংকস। আসন্ন রমজান উপলক্ষে অরেঞ্জ ড্রিংসের চাহিদা বেশি হওয়ায় বেশি মুনাফা লাভের আশায় তারা মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল দিয়ে এসব তৈরি করছিলেন। তাদের ছিল না কোনো ল্যাব এবং ল্যাব টেকনিশিয়ান।

এসব অভিযোগে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় দুটি অরেঞ্জ পাউডার ড্রিংকস তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া একই এলাকায় একটি বেকারিতে অভিযান চালিয়ে আরও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) রাতে জাগো নিউজকে বিষয়টি জানান র‌্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন।

jagonews24.com

তিনি বলেন, রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুটি অরেঞ্জ পাউডার ড্রিংকস তৈরির কারখানা ও একটি বেকারিসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে ৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। অভিযানে সহায়তা করে র‌্যাব-২ ও বিএসটিআই।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু জাগো নিউজকে বলেন, আসন্ন রমজানে দেশে অরেঞ্জ পাউডার ড্রিংক ট্যাং-এর অনেক চাহিদা থাকে। এটাকে পুঁজি করে কেরানীগঞ্জের শান্ত ফুড প্রোডাকস্ ও এ বি ফুড অ্যান্ড কনজুমার প্রোডাকস্ নামের দুটি কারখানা অস্বাস্থ্যকর, নোংরা পরিবেশ, নিষিদ্ধ স্যাকারিন ও মেয়াদোত্তীর্ণ সাইট্রিক এসিড, মেয়াদোত্তীর্ণ কালার অ্যান্ড ফ্লেভার ও মেয়াদোত্তীর্ণ জেনথনসহ বিভিন্ন মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল দিয়ে অরেঞ্জ পাউডার ড্রিংকস তৈরি করছিল। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন থাকলেও ছিল না পরিবেশের ছাড়পত্র ও স্টক লাইসেন্স। তাদের ছিল না কোনো ল্যাব এবং ল্যাব টেকনিশিয়ান। এসব অভিযোগে কারখানা দুটিকে তিন লাখ তিন লাখ করে মোট ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

jagonews24.com

পলাশ কুমার বসু আরও বলেন, এছাড়া এন বেঙ্গল সুইটমিট অ্যান্ড বেকারি নামের একটি কারখানার কিছু খাদ্যদ্রব্যে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছিল আর বাকিগুলোতে ছিল না। তৈরিকৃত খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে বেকারিতে কাজ করা কর্মচারীদের শরীরের ঘাম বেয়ে পড়ছিল এবং কর্মচারীদের হাতে ছিল না গ্লাভস। বেকারির একই ফ্রিজে রাখা ছিল কাঁচা মাছ-মাংস। এসব অভিযোগের কারণে কারখানাটিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া এক মাসের সময়ও বেঁধে দেয়া হয়েছে তাদেরকে। যদি এক মাস পর কারখানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগের কারণগুলোর সমাধান করতে না পারে তবে কারখানাটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

টিটি/এমআরআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]