তিমি মৃত্যুর সঠিক কারণ দ্রুত চিহ্নিত করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৪৫ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২১

কক্সবাজারের হিমচড়ি সৈকতে পরপর দু’দিন দুটি তিমি মাছের মৃতদেহ ভেসে আসে। ব্রাইড প্রজাতির এই দুটি তিমির মৃত্যু এবং সৈকতে ভেসে আসা নিয়ে এরই মধ্যে বেশ চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে নানা মহলে। অনেকেরই দাবি, জেলেদের জালে আটকা পড়ে কিংবা কোনো ধাতব কিছুর আঘাতে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে এই দুটি তিমি মাছের। যা সমূদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

একটি নয়, পরপর দুটি তিমি মাছের মৃতদেহ ভেসে আসার কারণেই সমূদ্র পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন সবাই। যে কারণে তিমির মৃত্যুর সঠিক কারণ দ্রুত চিহ্নিত করার দাবি তুলেছে সমূদ্র পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন সেভ আওয়ার সি। সংগঠনটির মহাসচিব মুহাম্মদ আনোরুল হক সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি তুলে ধরা হয়।

সেভ আওয়ার সি’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কক্সবাজার সৈকতে গত ৯ এবং ১০ এপ্রিল পরপর দু’দিন জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা দুইটি ব্রাইড প্রজাতির তিমির মৃতদেহ পাওয়া গেছে। যা সাগরের জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।

এই প্রজাতির তিমির খাদ্যাভাস এবং স্বভাবসূলভ বিচরণ ক্ষেত্রটা অনেক গভীর সমূদ্রে। স্বাভাবিকভাবে অল্প পানিতে আসে না। বাংলাদেশে সোয়াচ অব নো বটম থেকে শুরু করে শ্রীলংকা, মাদাগাস্কার, ওদিকে আন্দামান সাগর হয়ে ওশেনিয়া এবং প্যাসিফিক সাগরের গভীর এবং উষ্ণ অঞ্চলে এরা চলাচল করে।

এগুলোর মৃত্যুর কারণ হতে পারে গোস্ট নেটের ফাঁদে পড়া, পেটে প্লাস্টিক ও অপচনশীল দ্রব্যের উপস্থিতি অথবা পানির নিচে সাবমেরিন বিধ্বংসী বিস্ফোরণ। এছাড়া ব্যাকটেরিয়া, ফাঙাস, ভাইরাস, প্যারাসাইড, বণ্য অথবা যান্ত্রিক সংঘর্ষও এই দুটি তিমি মাছের মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

তিমি ফিল্টার ফিডিং পদ্ধতিতে ছোট প্রজাতির মাছের ঝাঁক এবং অন্যান্য ছোট কিছু প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে। সূর্যের আলোতে গভীর পানির নিচে এদের খাবারগুলো থাকলেও চাঁদের আলোতে খাবার খেতে তারা আবার সমূদ্রের উপরিভাগে চলে আসে। সে সময় জাহাজের সঙ্গেও সংঘর্ষ হতে পারে।

ময়নাতদন্ত করে এই দুটি তিমির মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করা জরুরি। মৃত্যুর কারণ বাংলাদেশের জলসীমা অথবা এর বাইরেও হতে পারে। যদি বাংলাদেশের জলসীমায় হয়ে থাকে, তাহলে সে অনুযায়ী আমাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আর যদি অন্য দেশে ঘটে থাকে তাহলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমস্যাগুলো প্রতিকার করার জন্য সচেষ্ট হতে হবে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হবে সমূদ্র পরিবেশ এবং রক্ষা হবে সমূদ্রের জীববৈচিত্র্য।

সমূদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সেভ আওয়ার সি’র ভবিষ্যত পরিকল্পনায় রয়েছে- ভেটেনারি, আন্ডারওয়াটার এক্সপ্লোরার, ওশান সায়েন্টিস্টদের সঙ্গে নিয়ে সমূদ্রের অসঙ্গতি দূর করার জন্য একটি দল কাজ করা। আহত সামূদ্রিক প্রাণীদের উদ্ধার, চিকিৎসা ও আহত হওয়ার কারণ উদঘাটন করা এবং সমূদ্রদুষণ দূরীকরণ ও সমূদ্রের জীববৈচিত্র সংরক্ষণের আইনগত বিষয়ে কাজ করা।

আইএইচএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]