ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহত্যা নিয়ে যা বলল পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৬ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২১

গত ৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানার হিলভিউ আবাসিক এলাকার নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আবদুল মোরশেদ চৌধুরী। তবে আত্মহত্যার পর থেকে তার পরিবার দাবি করছে, একটি প্রভাশালী চক্রের চাপে তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

এ ঘটনায় নিহত মোরশেদ চৌধুরীর স্ত্রী ইশরাত জাহান চৌধুরী বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর বিষয়টি আরও খোলাসা করতে রোববার (১১ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মোরশেদের স্ত্রী, মা, বড় ভাই ও মেয়েসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য।

সেখানে লিখিত বক্তব্যে মোরশেদ চৌধুরীর স্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বামী তার ফুফাতো ভাই জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, পারভেজ ইকবাল চৌধুরী ও পাঁচলাইশের সৈয়দ সাকিব নাঈম উদ্দীনের কাছ থেকে কয়েক বছর আগে ব্যবসার কাজে ২৫ কোটি টাকা ধার নেন। এরপর ২০১৮ সালের মধ্যে ওই ধারের টাকা লভ্যাংশসহ ৩৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু এরপরও তারা টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এ কাজে তারা আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও একদল সন্ত্রাসীর।’

তিনি বলেন, ‘ওই অসাধু চক্র আমার স্বামীকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। বেশ কয়েকবার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়েছেন। পরিবারের কয়েকজনের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়েছেন। এছাড়া টাকা ফেরত পাওয়ার পরও তারা কৌশলে চেক ফেরত দেননি। আবার এসব চেক নিয়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।’

ইশরাত জাহান বলেন, ‘এসব নিয়ে সবসময় তার মধ্যে এক ধরনের চাপ কাজ করত। এই চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি সবার অজান্তে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। আমার দৃষ্টিতে এটা একটা ফোর্স ডেথ। তাই আমি আমার স্বামীর আত্মহননের নেপথ্যে জড়িতদের বিচার চাই।’

মোরশেদ চৌধুরীর মা নুর নাহার বলেন, ‘আমার ছেলে পাওনা টাকার চেয়ে বেশি টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তারা আরও টাকার জন্য ক্রমাগতভাবে চাপ দিতে থাকেন। তারা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার ছেলেকে আত্মহত্যার বাধ্য করেছেন। আমি আমার আদরের সন্তান হত্যার বিচার চাই।’

আত্মহত্যার আগে সুইসাইড নোটে মোরশেদ লিখে গেছেন, ‘আর পারছি না। সত্যি আর নিতে পারছি না। প্রতিদিন একবার করে মরছি। কিছু লোকের অমানসিক প্রেসার আমি আর নিতে পারছি না। প্লিজ, সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমার জুমকে (মেয়ে) সবাই দেখে রেখো। আল্লাহ হাফেজ।’

মিজানুর রহমান/ইএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]