অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান কেন বন্ধ?

মুসা আহমেদ
মুসা আহমেদ মুসা আহমেদ
প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২১

নিজেদের মালিকানাধীন ২১টি মার্কেটে নকশাবহির্ভূত দোকান রয়েছে, চার মাস আগে এমন তালিকা করেছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সে তালিকা ধরে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট-২ ও সুন্দরবন স্কোয়ার সুপারমার্কেট থেকে দুই হাজারের বেশি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু বাকি মার্কেটগুলোতে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রেখেছে করপোরেশন। কী কারণে এ অভিযান বন্ধ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এসব মার্কেটের বৈধ দোকানিরা।

তবে সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টদের দাবি, তারা এখন নগরে অবৈধভাবে দখল হওয়া খাল উদ্ধারে ব্যস্ত। তাই মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রেখেছেন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, করোনা মহামারিতে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ডিএসসিসি। মার্কেট ভাঙার প্রতিবাদে তখন বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ডিএসসিসির সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনও এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেন। এর কিছুদিন পর অঘোষিতভাবে অভিযান বন্ধ করে দেয় ডিএসসিসি।

ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগ সূত্র জানায়, মেয়রের নির্দেশেই ওই মার্কেটগুলোর তালিকা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল সাবস্টেশন মার্কেট, নিউ সুপার (দক্ষিণ) মার্কেট, নিউ সুপার (উত্তর) মার্কেট ডি ব্লক, চকবাজার পাবলিক টয়লেট মার্কেট, মতিঝিল মিডল সার্কুলার রোড মার্কেট, নীলক্ষেত রোডসাইড মার্কেট, ঢাকা মেডিকেল সংলগ্ন মার্কেট, ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট-২ এর ব্লক এ, ব্লক বি ও ব্লক সি, সুন্দরবন স্কোয়ার সুপার মার্কেট, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ হকার্স মার্কেট, নর্থ-সাউথ রোডসাইড মার্কেট, নবাব ইউসুফ মার্কেট, নবাব ইউসুফ এক্সটেনশন মার্কেট, নবাব ইউসুফ কাঁচা মার্কেট, কাপ্তান বাজার কমপ্লেক্স ভবন-১ ও ২, আহসান মঞ্জিল সুপার মার্কেট, লক্ষীবাজার মার্কেট, সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টার মার্কেট।

jagonews24

এসব মার্কেটে তিন হাজারের বেশি নকশাবহির্ভূত দোকান রয়েছে। তবে গত ডিসেম্বরে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ ও সুন্দরবন স্কোয়ার সুপার মার্কেট থেকে দুই হাজারের বেশি অবৈধ দোকান উচ্ছেদে করা হয়েছে।

ডিএসসিসির নগর ভবনের পেছনে আছে ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট-২ এর ব্লক- এ, বি ও সি। এই তিনটি ব্লকের চারপাশে বর্তমানে অবৈধ দোকান ভাঙা ইট-সুরকিতে ভরা। সুন্দরবন স্কোয়ার সুপার মার্কেটের সামনেও একই চিত্র। তবে অন্যান্য মার্কেটে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। প্রতিটি মার্কেটের লিফটের জায়গা, বারান্দা, টয়লেটের জায়গা এবং সিঁড়ির নিচেও অবৈধ দোকানপাট গড়ে উঠেছে।

আহসান মঞ্জিল সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী হামিদুল হক বলেন, ‘যে যার মতো করে এসব দোকান নির্মাণ করেছে। কিন্তু ডিএসসিসি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

বাকি মার্কেটগুলোতে কবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে, এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সামনে বর্ষা মৌসুম। তাই নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে এখন খালগুলো অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করছি। পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করে খালে পানি প্রবাহ সৃষ্টি করছি। এই কাজগুলো শেষ হলে মার্কেটের দিকে ফের নজর দেব।’

এমএমএ/এমএইচআর/এইচএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]