চালের জন্য তীব্র রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা তাদের

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:৫২ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০২১

মঙ্গলবার, মধ্যদুপুর। রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের আজিমপুর শাখার বিপরীত দিকের রাস্তায় খোলাবাজারের (ওএমএস) চাল বিক্রির ট্রাকের সামনে নারী ও পুরুষের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। ট্রাকের সামনে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ লেখা থাকলেও উপস্থিত অনেকের মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি। আবার যাদের মুখে মাস্ক আছে তারা থুতনির নীচে নামিয়ে রেখেছেন। সামাজিক দূরত্বতো দূরের কথা, লাইন ভেঙে যেন কেউ প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সূচ পরিমান ফাঁকা না রেখে গায়ে গা ঘেঁষে সবাই সিরিয়াল আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।

চৈত্র্যের শেষ দুপুরের প্রচণ্ড সূর্যতাপ থেকে রক্ষা পেতে তাদের কেউ ছাতা মাথায়, কেউ ব্যাগ মাথায়, আবার কেউবা শাড়ির আচল দিয়ে গরম থেকে রক্ষার চেষ্টা করছিলেন। উপস্থিত সকলকে গরমে ঘামতে দেখা যায়। তবে দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে চাল হাতে পেয়ে মুখে হাসি ফোটে তাদের।

jagonews24

উপস্থিত নারী ও পুরুষের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, তারা সকলেই নিম্ন আয়ের মানুষ। কেউ রিকশা-ভ্যানচালক, কেউ বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন আবার কেউ ফুটপাতে ফলমূল ও শাকসবজি বিক্রি করেন। আগামীকাল বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে সর্বাত্মক বিধিনিষেধে তাদের আয়-রোজগার থাকবে না। দুবেলা দুমুঠো ভাত খাওয়ার জন্য তারা প্রতি কেজি ৩০ টাকা মূল্যে ওএমএসের চাল কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। সকাল থেকেই প্রচণ্ড ভিড়। ফলে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করেও অনেকে চাল পাচ্ছেন না বলে জানান।

jagonews24

স্থানীয় রসুলবাগের বাসিন্দা রিকশাচালক হরমুজ আলী জানান, রিকশা চালিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসারের খরচ চালান। আগামীকাল থেকে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ শুরু হবে বলে শুনেছেন। রিকশা চলবে কিনা জানেন না। গত কয়েকদিন ঢিলেঢালা বিধিনিষেধে যা আয় হয়েছে সেখান থেকে জমানো কিছু টাকা দিয়ে পাঁচ কেজি চাল কিনে নিচ্ছেন। বাসা থেকে মেয়েকে ডেকে এনে লাইনে দাঁড় করিয়ে আরও পাঁচ কেজিসহ ১০ কেজি চাল কিনেছেন। অন্তত লবণ দিয়ে ভাতটা যেন খেয়ে থাকতে পারেন তাই আগাম কিনে রাখছেন বলে জানান।

ওএমএস চাল বিক্রেতা আক্তার জানান, ওএমএসের ৩০টাকা কেজির এ চালের চাহিদা ব্যাপক। সকাল থেকে চাল মেপে ব্যস্ততায় দম ফেলার ফুসরত পাচ্ছেন না। লাইনে দাঁড়ানো একেকজনকে পাঁচ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। তবে অভাবী এ মানুষগুলোর অনেকেই পরিবারের একাধিক সদস্যেকে লাইনে দাঁড় করিয়ে চাল কিনে নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এমইউ/ইএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]