শ্যালককে হাসপাতালে রেখে বাড়ি ফেরার পথে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩১ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২১

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে শুরু হওয়া কঠোর বিধিনিষেধে দেখা যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে। রাস্তায় রাস্তায় পুলিশের চেকপোস্ট। এই চেকপোস্ট অতিক্রম করে কেউ যেতে পারছেন না। সবাইকে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পার হতে হচ্ছে। এদিন ‘মুভমেন্ট পাস’ ছাড়া কাউকে সহজে চেকপোস্ট অতিক্রম করতে দেয়নি পুলিশ।

ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সাভার থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সকালে করোনা আক্রান্ত শ্যালককে নিয়ে গিয়েছিলেন জামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে রাজধানীর গাবতলীতে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। ‘মুভমেন্ট পাস’ এবং হাসপাতালের কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ম্যাজিস্ট্রেট তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ঘটনাস্থলে থাকা জাগো নিউজের এই প্রতিবেদককে জামাল বলেন, ‘শ্যালক করোনা আক্রান্ত। তাকে সাভার থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার কাছে কোনো পাস না থাকার কারণে জরিমানা দিতে হলো এক হাজার টাকা।’

নিয়মিত মিরপুর-১২ নম্বর ক্যান্টনমেন্টে দুধ সরবরাহ করেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার মো. শরিফুল ইসলাম। আজও ৩০০ কেজি দুধ দিয়ে ফেরার পথে গাবতলীতে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতে মুভমেন্ট পাস ও কাগজপত্র না দেখাতে পারায় দুই হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে তাকে।

বুধবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর থেকে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন বিআরটিএ আদালত-০৮ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফকরুল ইসলাম।

মো. ফকরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘গাবতলীতে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। লকডাউনে মানুষ যাতে বিনা কারণে বাইরে বের না হন মূলত সে কারণেই আজকের ভ্রাম্যমাণ আদালত। যারা বিনা কারণে বাইরে বের হয়েছেন এবং বাইরে বের হয়েও মুভমেন্ট পাস ও সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তাদেরকে জরিমানা করা হচ্ছে। অন্যদিকে যারা মুভমেন্ট পাস দেখাতে পারছেন তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।’

এদিন সকালে দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসানো চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ঘরের বাইরে থাকা নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

যেভাবে পাওয়া যাবে মুভমেন্ট পাস-

জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে চলাচলের জন্য ১৪টি শ্রেণিতে মুভমেন্ট পাস দেবে পুলিশ। মুদি দোকানে কেনাকাটা, কাঁচা বাজার, ওষুধপত্র, চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত, কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ, ত্রাণ বিতরণ, পাইকারি বা খুচরা ক্রয়, পর্যটন, মৃতদেহ সৎকার, ব্যবসা ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে দেওয়া হবে এই মুভমেন্ট পাস।

movementpass.police.gov.bd এ ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পাস সংগ্রহ করতে পারবেন যে কেউ। তবে প্রতিটি পাস একবারই ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ যাওয়া-আসার জন্য আলাদা আলাদা পাস সংগ্রহ করতে হবে।

যার জন্য পাসটি দরকার সেই ব্যক্তির নাম, মোবাইল ফোন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স, যে স্থানে যাচ্ছেন সে জায়গার নাম, যেখান থেকে যাবেন সেই স্থানের নাম ও যাত্রার কারণ ইত্যাদি তথ্য পূরণ করে উল্লেখিত লিংকে আবেদনের পর পুলিশ অনলাইনে কিউআর কোড স্ক্যানারসহ একটি পাস ইস্যু করবে। এই কোডটি স্ক্যান করেই চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা আবেদনকারীর তথ্য ও যাত্রার কারণ নিশ্চিত করবেন।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ছয় লাখ নাগরিক বাইরে চলাফেরার অনুমতি চেয়ে মুভমেন্ট পাসের জন্য পুলিশের ওয়েবসাইটে ঢুকেছেন। তাদের মধ্যে সব ধাপ সম্পন্ন করে পাসের রেজিস্ট্রেশন করতে পেরেছেন মাত্র ৬০ হাজার নাগরিক। বাকিদের রেজিস্ট্রেশনের কোনো না কোনো ধাপে সার্ভার কাজ না করায় তারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। যেই ৬০ হাজার নাগরিক মুভমেন্ট পাসের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন তাদের মধ্যে ৩০ হাজার জনের পাস ইস্যু করা হয়েছে।

টিটি/এসএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]