দ্বিগুণ ভাড়া গুনে এসে দেখেন হাসপাতাল বন্ধ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:০৮ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২১

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) আউটডোর ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে হাঁপাচ্ছিলেন বিক্রমপুরের তালতলার মধ্যবয়সী বাসিন্দা সৈয়দ আওলাদ হোসেন। কয়েকদিন আগে আউটডোর চিকিৎসককে দেখিয়েছিলেন। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আজ সাক্ষাতের তারিখ দেন চিকিৎসক। রমজানের প্রথম দিনে সাহরি খেয়ে আর ঘুমাননি। সকাল থেকে বিধিনিষেধ (লকডাউন) শুরু হলেও বিক্রমপুর থেকে সিএনজিতে ৭০ টাকা দিয়ে শ্যামবাজারের কদমতলীতে আসেন। বিধিনিষেধের কারণে রিকশা ভাড়া তিনগুণ চাওয়ায় কদমতলী থেকে হেটেই রওনা হন। কিন্তু এসে জানতে পারেন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি।

পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা এক দম্পতি জানান, তারাও সিরাজদিখান তালতলা থেকে বিভিন্ন যানবাহনে ভেঙে ভেঙে মোট ৪০০ টাকা খরচ করে বিএসএমএমইউতে এসেছেন। শীলা নামের নারীটি জানান, তার ক্যান্সার ধরা পড়েছে। দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হবে। চিকিৎসক দেখা করতে বলেছিলেন। কিন্তু আজ যে বন্ধ তা মনে ছিল না বলে জানান তিনি।

শুধু আওলাদ হোসেন কিংবা শিলা একা নন, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার বহু রোগী কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও বিএসএমএমইউ খোলা ভেবে ডাক্তার দেখাতে ছু্টে আসেন। অপেক্ষাকৃত কম খরচে ভাল ডাক্তার দেখানোর সুযোগ পাওয়ার কারণে বিএসএমএমইউ’র বহির্বিভাগে প্রতিদিন ছয় থেকে আট হাজার রোগী আসেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজও অনেকে ছুটে আসেন। কিন্তু তারা বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে হাসপাতাল যে বন্ধ তা জানতেন না।

jagonews24

সরেজমিন পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বহির্বিভাগের এদিক সেদিকে বেশকিছু সংখ্যক রোগীকে ফিরে যেতে দেখা যায়। হাসপাতালের বহির্বিভাগে কর্তব্যরত আনসার সদস্য সানোয়ার হোসেন জানান, সকাল থেকে অনেক রোগী এসে হাসপাতাল বন্ধ দেখে ফিরে গেছেন। বিধিনিষেধের মধ্যেও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দূরদূরান্ত থেকে পায়ে হেটে, রিকশা কিংবা মোটরসাইকেলে করে রোগীরা এসেছেন।

হাসপাতালের সামনে স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রাজধানীর বিমাবন্দর এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরীজীবি এক যুবক। সন্তান ও স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর আশায় মোটরসাইকেলে করে আসেন। পথে কয়েকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়লেও আগের প্রেসক্রিপশন থাকায় আসতে দিয়েছে বলে জানান।

এত দূর থেকে এসে ডাক্তার না দেখিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে বলে মনটা খারাপ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘লকডাউনে সরকারি সব হাসপাতাল খোলা থাকবে কিন্তু আজ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে যে বিএসএমএমইউ বন্ধ থাকবে তা বুঝতে পারিনি।’

এমইউ/ইএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]