‘নৌকায় পাড়ি দিতে পুলিশের মুখোমুখি হতে হয় না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৩ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২১

করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে বুধবার ভোর ৬টা থেকে আটদিনের কঠোর লকডাউন (বিধিনিষেধ) শুরু হয়েছে। এই লকডাউনে রাস্তায় রাস্তায় পুলিশের চেকপোস্ট বসেছে। চেকপোস্ট অতিক্রম করে কেউ যেতে পারছেন না। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পার হতে হচ্ছে। কিন্তু নৌপথে এর চিত্র ভিন্ন। সদরঘাট থেকে কঠোর লকডাউনেও চলছে নৌকা। ওয়াইজঘাট থেকে বাবুবাজার ব্রিজঘাটসহ সব ঘাটেই চলছে নৌকা। তবে দেখা যায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যকে। যাত্রীরাও পার হচ্ছেন আরামে।

বুধবার (১৪ এপ্রিল) ঢাকার সদরঘাটের নৌঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নৌঘাট দিয়ে মানুষ নৌকা করে নদী পার হচ্ছেন। নৌকাও চলছে নিয়মিত। ভাড়াও আগের মতো।

boad5

ওয়াইজঘাট থেকে ব্রিজঘাটে নৌকা করে পার হচ্ছিলেন মিরাজ সরদার। তার সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, বাবুবাজার ব্রিজ দিয়ে পার হতে হলে পুলিশের চেকপোস্টের মুখোমুখি হতে হয়। অনেক কথার জবাব দিতে হয়। নৌঘাট দিয়ে কোনো সমস্যা হয় না। মনের মতো করে পার হয়ে নিজ গন্তব্যে যেতে পারি।

ওয়াইজঘাট থেকে আলম মার্কেটে নৌকা করে পার হচ্ছিলেন জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, কিছু প্রয়োজনীয় কাজে কেরাণীগঞ্জ থেকে সদরঘাট এসেছিলাম। আসার সময় ব্রিজ দিয়ে পার হয়েছি। এ সময় পুলিশের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এখন নৌকা করে আলম মার্কেট যাচ্ছি। এখানে কারও বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। আরামে নৌকায় পার হচ্ছি। এরপর রিকশা করে নিজ গন্তব্যে যাব।

boad5

নৌকার মাঝি গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমরা সকাল থেকে নৌকা চালাচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যর মুখোমুখি হতে হয়নি। জীবিকার প্রয়োজনে কঠোর লকডাউনেও নৌকা চালাচ্ছি। সরকার আমাদের একটা ব্যবস্থা করে দিলে নৌকা আর চালাতাম না।

মাঝি তোফায়েল হোসাইন বলেন, নৌকা চালিয়ে সংসার চালাতে হয়। তাই আজ সকাল থেকে নৌকা চালানো শুরু করেছি। লকডাউন থাকলেও জীবিকার প্রয়োজনে নৌকা চালাচ্ছি। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।

boad5

লকডাউন ঘোষণা করে গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। লকডাউনের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

চলমান বিধিনিষেধের আটদিন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে গণপরিবহন। তবে জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান-সংস্থা খোলা রয়েছে। খোলা রয়েছে শিল্প-কারখানা। সীমিত পরিসরে দেয়া হচ্ছে ব্যাংকিং সেবা।

boad5

এই সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না। খোলা স্থানে কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনা-বেচা করা যাবে ছয় ঘণ্টা।

জেএ/বিএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]