প্রতিদিন ৮০০ জনকে ইফতার করান প্রচারবিমুখ এক ব্যবসায়ী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:৫৬ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২১

রমজানের প্রথম দিন বুধবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় পুরান ঢাকার লালবাগের হরনাথ ঘোষ রোডের সামনে শত শত নারী-পুরুষের পৃথক দুটি দীর্ঘ লাইন। তাদের সবার হাতে ‘নবীন বাংলাদেশ’ লেখা একটি প্রতিষ্ঠানের কার্ড।

ভলান্টিয়ার কয়েকজনের তদারকিতে সুশৃঙ্খলভাবে সকলেই এগিয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের হাতে একটি করে ইফতারের প্যাকেট তুলে দেয়া হচ্ছে। সাদা পাঞ্জাবি পায়জামা পরিহিত এক যুবকসহ কয়েকজন কার্ড দেখে দেখে ইফতারি তুলে দিচ্ছেন।

jagonews24

এ সময় সে রাস্তা দিয়ে টহলরত পুলিশের পিকআপ ভ্যান সামনে দিয়ে চলে গেলেও এখানে এতো মানুষ কেন তা জিজ্ঞাসাও করেনি। দেশব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিনের শেষ বিকেলে এত মানুষের সমাগম দেখে কৌতূহলবশত এ প্রতিবেদক থমকে দাঁড়ান।

উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, এ প্রতিষ্ঠানের মালিকের পক্ষ থেকে রমজানের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে আট শতাধিক মানুষকে ইফতার খাওয়ানো হয়। গত দুই তিন বছর যাবত এ কার্যক্রম চলছে।

রমজানের কয়েকদিন আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে আশেপাশের পাড়া মহল্লার অসহায় দরিদ্রদের নামে কার্ড ইস্যু করা হয়। এ কার্ড দেখিয়ে প্রতিদিন লাইনে দাঁড়িয়ে ইফতারের প্যাকেট সংগ্রহ করতে হয়। ইফতারের প্যাকেটে যে পরিমাণ ইফতার দেয়া হয় তা দিয়ে একটি পরিবারের ইফতার হয়ে যায় বলে উপস্থিত লোকজন জানান।

jagonews24

১৭ হরনাথ ঘোষ রোডে অবস্থিত 'নবীন বাংলাদেশ নামক' এ প্রতিষ্ঠানটি ইলেকট্রিক সামগ্রীর (টেলিভিশন, মোবাইলসহ অন্যান্য সামগ্রী) আমদানিকারক, হোলসেলার ও রিয়েল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আনামুল হক নবীন প্রতি বছর গোটা রমজান জুড়ে ইফতার করানো ছাড়াও ঈদের আগে কার্ডধারি সকলকে ঈদের বাজারও বিতরণ করে থাকেন। বুধবার প্রথম রমজানের দিনেও তাকে নিজ হাতে দরিদ্রদের হাতে ইফতার সামগ্রী তুলে দিতে দেখা যায়।

এ সময় এ প্রতিবেদক তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিনীতভাবে বলেন, সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে সারা মাস জুড়ে রোজদারদের ইফতার করান ও ঈদের আগে ঈদের বাজার তুলে দেন। গত দুই বছর ধরে এ কাজটি করলেও কখনও গণমাধ্যমে প্রচার চাননি।

প্রচার নয়, মানুষের পাশে দাঁড়াতেই তিনি তৃপ্তি পান বলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ইফতার বিতরণে।

এমইউ/জেডএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]