গ্রাহকের অজান্তে মোবাইলের টাকা কাটার ব্যাপারে কঠোর বিটিআরসি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫১ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২১

টেলিকমিউনিকেশন ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসের (টিভ্যাস) মাধ্যমে গ্রাহকের অজান্তে টাকা কেটে নেয়ায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

টিভ্যাস হচ্ছে- মুঠোফোন অপারেটরদের দেয়া নিউজ অ্যালার্ট, ওয়েলকাম টিউন, গান, ওয়ালপেপার, ভিডিও, বিভিন্ন তথ্য (কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ধর্ম ইত্যাদি বিষয়ক), লাইফস্টাইল, গেম, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ইত্যাদি সেবা। এসব সেবার মাধ্যমে গ্রাহকের অজান্তে টাকা কেটে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) বিটিআরসির উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মো. জাকির হোসেন খাঁন জানান, বাংলাদেশে ২০১০ সালের দিকে স্বল্প পরিসরে টিভ্যাস সেবা প্রদান শুরু হয়। কিন্তু ২০১৮ সাল নাগাদ এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিটিআরসি হতে টিভ্যাস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট প্রদানের জন্য গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়। সে সময় হতে টিভ্যাস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট প্রদান শুরু করা হয়।

বর্তমানে বিটিআরসির অনুমোদিত টেলিকমিউনিকেশন ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (টিভ্যাস) প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রায় ১৮২টি। টিভ্যাস প্রোভাইডারগণ চারটি মুঠোফোন অপারেটরের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে মুঠোফোন গ্রাহকদের শর্টকোড, এসএমএস, আইভিআর, ওয়াপ, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিভ্যাস সেবা দিয়ে থাকে। সেবার বিনিময়ে গ্রাহকদের নিকট থেকে প্রাপ্য অর্থের একটা অংশ সম্পাদিত চুক্তি মোতাবেক মুঠোফোন অপারেটররা পেয়ে থাকে। এছাড়াও টিভ্যাস প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অর্জিত রাজস্বের মোট ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বিটিআরসি বা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিটিআরসির এই কর্মকর্তা আরও জানান, সম্প্রতি টিভ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রাহক পর্যায়ে কিছু অভিযোগ পাওয়া যায় যেমন- গ্রাহকের অজান্তে টিভ্যাস সার্ভিস একটিভেট করে টাকা কেটে নেয়া, অপ্রয়োজনীয় সেবা চালু করে দেয়া ইত্যাদি। বিটিআরসির প্রাপ্য রাজস্ব পরিশোধ না করাসহ গ্রাহক স্বার্থ বিবেচনায় বিটিআরসি টিভ্যাস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটধারী প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন শুরু করে। ইতোমধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে এবং এদের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বেশ কিছু ব্যত্যয় পাওয়া যায়। সেগুলো হলো-

ক) নিবন্ধিত ঠিকানায় অফিস না থাকা;

খ) কমিশন হতে সার্ভিস এবং ট্যারিফ অ্যাপ্রুভাল ব্যতিরেকে টিভ্যাস সেবা প্রদান করা;

গ) টিভ্যাস প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মনিটরিং টার্মিনাল বা অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা;

(ঘ) অবকাঠামো ভাগ করে নেয়ার চুক্তি ছাড়া সার্ভার স্থাপনপূর্বক সেবা প্রদান করা;

ঙ) অডিট রিপোর্ট প্রদান করতে না পারা;

চ) টিভ্যাস একটিভের ক্ষেত্রে বিটিআরসির নির্দেশনা মোতাবেক অন টাইম পাসওয়ার্ড বাস্তবায়ন না করা।

ছ) টিভ্যাস সার্ভিস একটিভের ক্ষেত্রে বিটিআরসির নির্দেশনা অমান্য করে গ্রাহকদের সম্মতি ব্যতিরেকে অটো রিনিউল চালু রাখা;

জ) টিভ্যাস গাইডলাইন প্রণয়নের পূর্ব থেকে টিভ্যাস প্রদানকারীগণ কর্তৃক কমিশনের প্রাপ্য রাজস্ব প্রদান না করা;

(ঝ) গ্রাহকের অজান্তে টিভ্যাস সার্ভিস একটিভেট করে টাকা কেটে নেয়া।

এসব বিষয়ে বিটিআরসির উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মো. জাকির হোসেন খাঁন বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কমিশন হতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এরূপ পরিদর্শন কার্যক্রম চলমান থাকবে। ইতোমধ্যে উইন মিয়াকি লি., মিয়াকি মিডিয়া লি. ও বিনবিট মোবাইল এন্টারটেইনমেন্ট লি. নামক তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। বাকী প্রতিষ্ঠান সমূহের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এইচএস/জেডএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]