লকডাউনে দোকান খোলা রাখায় জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৯ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২১

লকডাউনে বিধিনিষেধ না মানা এবং দোকানপাট খোলা রাখায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) পৃথক ছয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এতে ২২টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় মোট ৬৭ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এর মধ্যে অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (আনিক) মেরীনা নাজনীন কলাবাগান, কাঠালবাগান ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

আদালত এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের ফুটপাতে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা একটি দোকান দেখতে পেলে তা উঠিয়ে দেন। আর দোকানের মালামাল গরিবদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এছাড়াও অভিযানকালে ৩টার পরে খোলা থাকা ৫০টির অধিক দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়।

অঞ্চল ২ এর আওতাধীন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরাপুল বাজার এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসাবো বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় অননুমোদিতভাবে দোকানপাট খোলা রাখা ও রাস্তার উপর অনুমোদনবিহীন দোকানের পসরা সাজিয়ে বসা এবং মাস্ক পরিধান না করায় ১০ জনকে সাময়িকভাবে আটক রাখা হয়। পরবর্তীতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ না করার অঙ্গীকার করায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এ সময় আদালত পথচারীসহ প্রায় ৭০ জনকে মাস্ক পরিয়ে দেন।

অঞ্চল-৩-এর আনিক বাবর আলী মীর বেড়িবাঁধ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় ২৫টির অধিক অননুমোদিত দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়।

অঞ্চল-৪-এর আনিক মো. হায়দর আলী ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের নওয়াব ইউছুপ কাঁচাবাজার ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে অননুমোদিত ২০টির অধিক বন্ধ করে দেয়া হয়।

অঞ্চল-৬-এর আনিক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার ৭৪ নং ওয়ার্ডের নন্দীপাড়ার বড় বটতলা ও ছোট বটতলা এলাকার মার্কেটে এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় অননুমোদিত প্রায় ১০০ দোকানপাট, কাপড়ের দোকান ও সেলুন বন্ধ করে দেয়া হয়। তাছাড়া মাস্ক না পরা ও লকডাউনের বিধিনিষেধ ভঙ্গ করে ঘোরাফেরা করায় প্রায় ৬০ জন ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয়।

অঞ্চল-৮-এর আনিক শহিদুল ইসলাম ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন গলিতে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ২০-২৫টি দোকানকে লকডাউন সংক্রান্ত বিধি-বিধান প্রতিপালনের বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এছাড়া মাস্কবিহীন পথচারীদের সতর্ক করা হয়।

jagonews24

এ ছাড়া সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অঞ্চল-৭-এর মান্ডা এলাকার ৭১ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সরকারি বিধি-নিষেধ না মানায় ৮টি মামলা দায়ের ও নগদ ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ আজ পোস্তগোলা, জুরাইন, শ্যামপুর, কদমতলী, ধোলাইপাড়, মীরহাজারীবাগ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময়ে ধোলাইপাড়ে ওয়ালটনের দুটি শো-রুমকে ২০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়াও সরকারের নির্দেশ অমান্য করে বেলা ৩টার পরে দোকান খোলা রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করায় আরও ৪ মামলাসহ মোট ৬ মামলায় ৫১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবীর ত্রপা অঞ্চল-১-এর জিগাতলা বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সরকারি নির্দেশনা না মানায় ৮টি মামলার মাধ্যমে ৪ হাজার ৩শ' টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযান প্রসঙ্গে কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান বলেন, 'আজ আমরা মান্ডা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি। এই এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে মাস্ক ছাড়া লোকজন যত্রতত্র এলাকায়-রাস্তাঘাটে ভিড় করছে, দোকানপাট খোলা রেখে ব্যবসাবাণিজ্য পরিচালনা করছে। যা সম্পূর্ণ বিধিনিষেধের আওতার পরিপন্থী। অভিযানে সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করায় চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছি। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করায় আরও চারটি মামলায় জরিমানা আদায় করা হয়েছে।'

অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'আজ ৬টি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। অভিযানে ধোলাইপাড় এলাকায় অনুনোমোদিতভাবে খোলা রাখায় ওয়ালটনের দুটি শো-রুমকে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও সরকারের নির্দেশ অমান্য করা ও স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করায় আরও ৪ মামলা করা হয়েছে। সবমিলিয়ে আজ মোট ৬ মামলায় ৫১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।'

এমএমএ/জেডএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]