কার্যকরী লকডাউন পেতে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৫ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২১

কার্যকরী লকডাউন পেতে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চের আয়োজনে শনিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে অনলাইনে 'প্রাণ প্রকৃতির উপর করোনার প্রভাব এবং চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনা' শিরোনামের আলোচনা সভায় যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আমাদের পূর্ণ রেশনিং ব্যবস্থা ছিল যা বৈশ্বিক উন্নয়ন মডেল এবং তার কর্তাদের কারণে বিলীন হয়ে গেছে। আমাদের পূর্ণ রেশনিং এর ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনতে হবে। কার্যকরী লকডাউনের জন্য সরকারকে প্রথমে আগে খাদ্য আবাসনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, 'আমরা বিগত বছরে করোনা সংকট হতে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারিনি। করোনা মহামারির ফলে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশা ও সক্ষমতার ঘাটতি প্রকাশ পেয়েছে। বিগত বছরে করোনার প্রাদুর্ভাব যখন দেখা দেয়, তখন এর মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল করোনা সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও তথ্যের অভাব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সাম্প্রতিক করোনার প্রকোপ পুনরায় ব্যাপক আকারে পূর্বের চেয়ে ও বিধ্বংসী রূপে দেখা দেয়।'

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, 'সম্প্রতি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে করোনার পরবর্তী দেশে দারিদ্র্যর হার বেড়েছে। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় করোনা আগমনের পূর্বে দারিদ্র্য সীমার নিচে প্রায় ২০ দশমিক ৫ শতাংশ জনগণের বসবাস।'

'নতুন গবেষণায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে করোনা পরিস্থিতির কারণে নতুন করে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ জনগণ দারিদ্র সীমার নিচে চলে গেছে। দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী নতুন দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর কারণ হচ্ছে শ্রমিক ছাটাই এবং সাধারণ ছুটি ঘোষণার কারণে সৃষ্ট কর্মহীনতা। অর্থাৎ আমাদের পুনরায় মধ্য আয়ের নিচের দিকে এবং দারিদ্র্য সীমার ঠিক উপরের দিকের জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান বিষয়ক নিরাপত্তা এবং ঝুঁকি নিয়ে পুনরায় ভাবতে হবে।'

হোসেন জিল্লুর বলেন, 'দুঃখজনকভাবে রাষ্ট্রীয় ও সরকারি পর্যায়ে করোনাকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি এবং সার্বিকভাবে ২০২০ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো ধর্তব্যের মধ্যে আনা হয়নি। এক্ষেত্রে সরকারি নীতিনির্ধারকদের ভূমিকা হতাশাজনক। এই সমস্যাকে মোকাবিলার জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং মানুষের ও তৃণমূলের সম্পৃক্ততাও প্রয়োজন।

কৃষি জমি বিনষ্ট ও দেশে চলমান নদী খনন বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি, বলেন জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আমাদের দেশের জমির স্বল্পতা একটি বাস্তবতা এবং আমাদের এটা বুঝতে হবে। যে করোনা সময়ে কৃষি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে ২০২০ সালে এবং সামনে ও রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।'

প্রফেসর আনু মুহাম্মদ তার বক্তব্যে বলেন, 'করোনা মহামারির প্রকোপের তীব্রতা দেশ ও স্থানভেদে ভিন্ন এবং আমাদের লক্ষ্য করতে হবে আমাদের দেশে কারা সবচেয়ে বেশি করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।'

তিনি বলেন, 'এটা লক্ষণীয় যে করোনা সংকটের ফলে ব্যাপক চাকরিচ্যুতির কারণে জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। করোনা রোগীরা যারা বেঁচে ফিরছেন তাদের চিকিৎসার জন্য ব্যাপক অর্থব্যয় করতে হচ্ছে।'

এফএইচ/জেডএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]