সকালে কড়াকড়ি, বিকেলে ঢিলেঢালা লকডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২১

আজ দেশে পঞ্চম দিনের মতো সর্বাত্মক লকডাউন পালিত হচ্ছে। এদিন সকালে রাজধানীতে কড়াকড়ি থাকলেও বিকেল থেকে ঢিলেঢালাভাবে লকডাউন পালিত হচ্ছে। কারণে বা অকারণে লোকজনকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে কিংবা পায়ে হেঁটে ঘরের বাইরে বের হতে দেখা গেছে।

তবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থানে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও দেখা গেছে।

রোববার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুর, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, আসাদগেট, গুলিস্তান, মৎস ভবন, কাকরাইল, সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

jagonews24

সরেজমিন দেখা যায়, চেকপোস্টগুলোতে পুলিশের খুব কড়া নজরদারি না থাকায় প্রধান সড়কগুলোতে অধিক পরিমাণে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করছে। কোথাও কোথাও আবার পরিবহনের লম্বা যানজট তৈরি হয়েছে।

এদিন সড়কগুলোতে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, পিকআপ, অ্যাম্বুলেন্স, রিকশাসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন পরিবহন চলাচল করতে দেখা গেলেও গণপরিবহন চলাচল করেনি। অনুমোদন ছাড়াই অনেককে ব্যক্তিগত পরিবহনে যাত্রী আনা-নেয়া করতে দেখা গেছে।

মিজানুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী মিরপুর থেকে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল নিয়ে যাত্রাবাড়ী যাচ্ছিলেন। পথে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, অনেক চেষ্টা করেও আউটপাস সংগ্রহ করতে পারেননি। তাই বাধ্য হয়ে ব্যবসার কাজে ঘর থেকে বের হয়েছেন। তবে কোথায় তিনি পুলিশি বাধার মধ্যে পড়েননি বলেও জানান।

ফার্মগেটে পুলিশের বড় চেকপোস্ট থাকলেও সেখানে ফাঁকা দেখা গেছে। পাশেই পুলিশের দায়িত্বরত সদস্যদের বিশ্রাম করতে দেখা গেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে কড়া নজরদারি না থাকায় কারণে বা অকারণে ব্যক্তিগত পরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

jagonews24

ফার্মগেটে দায়িত্বরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক আরিফের সঙ্গে কথা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সকালে রাস্তায় গাড়ির চাপ বেশি থাকে, সে জন্য কড়াকড়িভাবে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। আউটপাসসহ জরুরি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের গাড়ি ছাড়া হচ্ছে, অন্যদের বাড়ি ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। অহেতুক রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হলে তাদের আটক করে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুপুরে গাড়ির চাপ কম থাকায় চেকপোস্টে নজরদারি কিছুটা কম রয়েছে।’ পুলিশ সদস্যরা দিনভর দায়িত্বপালন করায় তাদের অনেকে বিশ্রাম করছেন। তবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সবাই ডিউটি করছেন বলে জানান তিনি।

কারওয়ান বাজারে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন মোটরসাইকেলচালক ইমদাদ হোসেন। অনুমোদন রয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করেছি, আউটপাস পাইনি বলে ঝুঁকি নিয়ে সকালে ঘর থেকে বের হয়েছি। এ পর্যন্ত কোথাও পুলিশের বাধায় পড়তে হয়নি।’

jagonews24

দুপুরে রমনা পার্কের পেছনে হেয়ার রোডে পুলিশের ছয়-সাতজনের একটি দলকে চেকপোস্টে ডিউটি করতে দেখা গেলেও তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি। অসংখ্য গাড়ি জবাবদিহি ছাড়া চেকপোস্ট দিয়ে চলে গেলেও দু-একটি গাড়ি আটকে বাইরে আসার কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে।

আউটপাস ছাড়াই গাড়িচালক নাসির উদ্দিন প্রাইভেটকারে যাত্রী নিয়ে মিরপুর থেকে এসেছিলেন। এ সময় হেয়ার রোডে তাকে আটকালে আউটপাস দেখাতে না পারায় তার বিরুদ্ধে ৩ হাজার টাকার মামলা দায়ের করা হয়।

নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেও আউটপাস ম্যানেজ করতে পারিনি বলে পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। সকাল থেকে ২ হাজার টাকা আয় করতে না পারলেও সার্জেন্ট ৩ হাজার টাকার মামলা করেছেন।’ এমন অবস্থায় কীভাবে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার দেবেন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

jagonews24

এই চেকপোস্টে পুলিশ সার্জেন্ট সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘চেকপোস্ট দিয়ে গাড়ি ক্রস করার আগে তাদের অনুমোদন দেখাতে বলা হচ্ছে। জরুরি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা যাদের আউটপাস নেই তাদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।’

সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের অপরাধ বিভাগের এক উপ-পরিদর্শক বলেন, ‘চেকপোস্টগুলোতে ক্রাইম পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে দায়িত্বপালন করা হচ্ছে। রাস্তায় বের হওয়া মানুষদের আউটপাস, মাস্ক ও স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করা হচ্ছে। কেউ অনুমোদন ছাড়া বের হলে আমরা ট্রাফিক পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছি। তারা মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’

এমএইচএম/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]