ডিএসসিসির বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান-জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৭ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২১

লকডাউনে বিধিনিষেধ না মানা, অনুমোদনবিহীন দোকানপাট খোলা রাখা ও মশার লার্ভা পাওয়ায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (১৮ এপ্রিল) ডিএসসিসি আওতাধীন এলাকায় একযোগে ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএসসিসির অঞ্চল- ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ ও ১০-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় পৃথকভাবে নেতৃত্ব দেন।

অভিযানে সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করা, স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করায় অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মেরীনা নাজনীন ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোড, নিউ মার্কেট, শাহবাগ, হাতিরপুল, সেগুনবাগিচা ও বেইলি রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে ৩টার পরে দোকান খোলা রাখায় সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারসহ ৩০টি দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়।

অঞ্চল-২-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সুয়ে মেন জো-এর তত্ত্বাবধানে ৪নং ওয়ার্ডের বাসাবো বালুর মাঠ সংলগ্ন এলাকার কাঁচাবাজার ও বৌদ্ধ মন্দির সংলগ্ন রোডে অভিযান চালানো হয়। এ সময় যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা এবং অননুমোদিতভাবে দোকান খোলা রাখায় প্রায় ৫০ ব্যক্তি ও দোকানকে সতর্ক করা হয়।

অঞ্চল-৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বাবর আলী মীর কামরাঙ্গিচর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত করেন। এ সময় ২৫টির অধিক অননুমোদিত দোকান বন্ধ করে দেয়া হয় এবং প্রয়োজন ছাড়া মাস্ক না পরে বের হওয়ায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১টি মামলা দায়ের এবং ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অঞ্চল -৪-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হায়দর আলী ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তাঁতীবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় অনুমোদনহীন দোকান খোলা রাখা, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় মোট ১৮টি মামলায় নগদ ৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

jagonews24

অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীনুর আলম ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধলপুর মালতিলতা কাঁচাবাজার অভিযান পরিচালনা করেন এবং ৩টার পরে খোলা রাখায় ৫টি দোকান বন্ধ করে দেন।

অঞ্চল-৬-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের শেখের জায়গা, মোস্তামাঝির মোড়, নাগদারপাড় এলাকায় অভিযান চালান। এতে অনুনোমোদিতভাবে দোকান খোলা রাখা ৮০টি দোকান বন্ধ করে দেয়া হয় এবং অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা করা প্রায় ৫০ ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয়।

অঞ্চল-৭-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহে আলম মান্ডা ব্রিজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি অনুনোমোদিত ২০টির অধিক দোকান বন্ধ করে দেন।

অঞ্চল-৮-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন গলিতে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি প্রায় ২৫টি দোকানকে লকডাউন সংক্রান্ত বিধিবিধান প্রতিপালনের বিষয়ে সতর্ক করেন। এছাড়াও মাস্কবিহীন পথচারীদেরকে সতর্ক করা হয়েছে।

অঞ্চল-১০-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন মিয়া শনির আখড়া জিয়া সরণি এলাকায় রাস্তার দু’পাশের কাঁচাবাজারে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে অনুনোমোদিত দোকানপাট বন্ধ পেলেও প্রচুর লোকসমাগম দেখতে পান।

সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনিরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত মালিবাগ রেলগেইট বাজার, শান্তিনগর বাজার ও ফকিরাপুল বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সরকারি নির্দেশনা না মানায় ৭টি মামলার মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ ইরফান উদ্দিন আহমেদ ওয়ারী, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, জয়কালী মন্দির এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করায় আদালত ৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং নগদ ৩৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবীর ত্রপার নেতৃত্বে এডিস মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণের জন্য মালিটোলায় ২৬টি স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নির্মাণাধীন একটি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় একটি মামলা দায়ের এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

আজকের অভিযান প্রসঙ্গে অঞ্চল-১০-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন মিয়া বলেন, ‘আজ শনির আখড়ার জিয়া সরণি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। এ সময় অনুনোমোদিত দোকানপাট এবং তিনটার পর অনুমোদিত কাঁচাবাজার বন্ধ পেয়েছি। কিন্তু বিনা প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে প্রচুর লোকসমাগম দেখেছি। পরে সেসব লোকজনকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে ও বিনা প্রয়োজনে বের না হতে সতর্ক করেছি।’

অভিযান প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবীর ত্রপা বলেন, ‘এডিস মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে আজ মালিটোলায় অভিযান পরিচালনা করেছি। ২৬টি স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা খুঁজে পাই। ঢাকা নিবাস নামে একটি ডেভেলপার কোম্পানি বাড়িটি নির্মাণ করছে। পরে সেই কোম্পানির বিরুদ্ধে ১টি মামলা দায়ের ও নগদ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছি।’

অভিযানকালে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা-২-এর সঙ্গে কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা-৪-এর সঙ্গে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বীর মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জন বিশ্বাস, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা-৬-এর সঙ্গে কাউন্সিলর মো. আকবর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএমএ/এআরএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]