অনলাইনে ইয়াবা বিক্রি, ফোন পেলে ব্যবসা বন্ধ করে দিতেন তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৯ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২১

অনলাইনে ইয়াবার ব্যবসা করতেন মো. সুজন (৩০) ও মো. মোশারফ হোসেন (৪০)। তারা দুই ভাই। ব্যবসায়িক অংশীদার বা ক্রেতাদের সঙ্গে কখনোই মোবাইল ফোনে কথা বলতেন না তারা। পুলিশের চোখ ফাঁকি দেয়ার জন্য কেউ ফোন দিলে সেই অংশীদারের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করে দিতেন সুজন ও মোশাররফ।

গত ১০ বছরে ধরে নিজস্ব ট্রাকে পণ্যের আড়ালে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে ঢাকা ও আশপাশ এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন তারা। ডিবি পুলিশ গত এক মাস ধরে তাদের ভাব-ভঙ্গি, চলাফেরা ও লাইফ স্টাইল অনুসরণ করছিল। তবে দক্ষ ইয়াবা কারবারি এই দুই ভাই শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছে।

৪৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ গোয়েন্দা বিভাগ। এ সময় চক্রের আরও দুজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- ট্রাকচালক জহিরুল ইসলাম (৩১) ও তার সহযোগী মো. আশরাফ আলী (২৬)।

রোববার (১৮ এপ্রিল) সকালে খিলগাঁও থানার মেরাদিয়াহাট সংলগ্ন এইচ ব্লকের ৫ নম্বর বাড়ির সামনে থেকে তাদেরকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম। এ সময় মাদক বহনে ব্যবহৃত তাদের ট্রাকটিও জব্দ করা হয়।

রোববার রাতে ডিএমপির গোয়েন্দা (ডিবি) লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মধুসূধন দাস জাগো নিউজকে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সুজন ও মোশারফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে ঢাকা ও আশপাশ এলাকায় বিক্রি করতেন। মূলত ইয়াবা বিক্রি করতেন অনলাইনের মাধ্যমে। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে বিভিন্ন আপের মাধ্যমে তারা কাস্টমারদের সঙ্গে কথা বলতেন। কোনো কাস্টমার সরাসরি মোবাইলে ফোন দিলে তার সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করে দিতেন তারা।

jagonews24

মুধুসূধন দাস আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা লালবাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম মেরাদিয়া হাট সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করে। রোববার সকালে সন্দিগ্ধ ট্রাকটি পৌঁছানোর পরই পথরোধ করে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সুজন ট্রাকের কেবিনের ভেতর চালকের আসনের উপর সিলিংয়ের সঙ্গে বিশেষ কায়দায় তৈরি বক্স থেকে সাদা রঙের টেপ ও সাদা রঙের টিস্যু পেপার দিয়ে মোড়ানো ২২টি বান্ডিল বের করেন। প্রতিটি বান্ডিলে ১০টি করে মোট ২২০টি জিপার পলিব্যাগ থেকে ৪৪ হাজার পিস হালকা গোলাপি রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে ও প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সুজন ও মোশারফ হোসেন সম্পর্কে ভাই। গত ১০ বছর ধরে তারা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। নিজেদের দক্ষতা ও কৌশল কাজে লাগিয়ে নিজস্ব ট্রাকে পণ্য পরিবহনের আড়ালে নেমে পড়েন ইয়াবা কারবারে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার সুজনের দেয়া তথ্যের বরাতে মধুসূদন দাস জানান, লকডাউনে সড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকলেও পণ্যবাহী ট্রাক চলছে। এই সুযোগে তারা ট্রাকটি পণ্যবোঝাই করে পাঠায় কক্সবাজারে। সেখান থেকে খালিই ফিরছিল ট্রাকটি। যে কারণে পথে হয়তো কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে পড়েনি। তবে তারা কক্সবাজার সীমান্ত থেকে ওই ৪৪ হাজার পিসের ইয়াবার চালানটি নিয়ে আসেন।

তারা পরস্পর যোগসাজশে জব্দ ট্রাকের কেবিনের ভেতরে সিলিংয়ের সঙ্গে বিশেষভাবে বক্স তৈরি করেছে, যা বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায়ই নেই। এভাবেই কৌশলে কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দীর্ঘদিন ধরে এনে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন তারা।

তাদের সহযোগী পলাতক আসামি কক্সবাজারের টেকনাফের মো. সেলিম (২৮) জব্দ করা ইয়াবা সংগ্রহ করতেন। ট্রাকযোগে বহন করে এনে অপর সহযোগী ভোলার মো. লিয়াকতের (৩৫) কাছে বিক্রির জন্য ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন তারা। পুলিশের অভিযানে দুজনই পালিয়ে যান। এই চক্রকে অবৈধ ইয়াবা বহন কাজে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ড্রাইভার হিসেবে জহিরুল ইসলাম ও হেলপার হিসেবে আশরাফ আলী দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় মাদক আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

টিটি/এমএসএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]