বিচারবিভাগীয় তদন্ত করে শ্রমিক হত্যার শাস্তি দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৩ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২১

চট্টগ্রামের বাাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারায় এস. আলম গ্রুপের মালিকানাধীন কয়লা-ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গুলি করে পাঁচ শ্রমিক হত্যার ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

বুধবার (২১ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।
স্কপের যুগ্ম-সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শহিদুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন স্কপ নেতা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে এস.আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকরা বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, রোজার মধ্যে ১০ ঘণ্টার পরিবর্তে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস বাস্তবায়ন, শুক্রবারের ডিউটির সময় ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ৪ ঘণ্টা নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন করছিল। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকের প্রতিনিধিরা আগের দিন শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে পরের দিন তা অস্বীকার করায় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে কাজ বন্ধ কর দিলে তাদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করতে শক্তি প্রয়োগ করা হয়। তখন শ্রমিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করলে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে পাঁচ জনকে হত্যা এবং অর্ধশতাধিক শ্রমিককে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়।

তারা আরও বলেন, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়া, নিজেদের জীবন হারানোর মত ঝুঁকি তৈরি হওয়া ছাড়া পুলিশ নির্বিচারে গুলি করতে পারে না।

এস.আলম কোম্পানির ভাড়াটিয়া কোনো বাহিনীর দায় পুলিশকে সামনে এনে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে কি-না সেই সংশয় প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, যদি ওই শ্রমিকদের বুকে পুলিশ গুলি চালিয়ে থাকে তাহলে খুনের অপরাধে পুলিশের ওই সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আর তদন্ত ছাড়াই ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে তারা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। তাই প্রশাসন বা পুলিশের তদন্ত নয়, প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও অপরাধীদের চিহ্নিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।

তারা অভিযোগ করেন, একই প্রকল্পে ৫ বছর আগেও গুলি করে ৪ জন মানুষ হত্যা করা হয়েছিল। পুলিশের ব্যর্থতার কারণে সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি বলেই একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।

শ্রমিকদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, তিন লাখ না, নিহত শ্রমিকদের পরিবার প্রতি আই.এল.ও কনভেনশন ১২১ অনুসারে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত ১০ দফা মেনে নিতে হবে।

সমাবেশ থেকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত, নিহত শ্রমিক পরিবার প্রতি আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।

স্কপ নেতৃবৃন্দ, অধিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে শ্রমিকদের রক্ষা করতে শ্রম আইনের কর্মঘণ্টা সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো স্থগিত করে জারি করা প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে বাতিল করার এবং করোনা সঙ্কটে কর্মহীন প্রকৃত শ্রমজীবীদের হাতে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে ত্রাণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় ক্রিয়াশীল শ্রমিক সংগঠনগুলোকে যুক্ত করার জোর দাবি জানান।

এসএম/এসএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]