শাল্লায় সংখ্যালঘু নির্যাতনে জড়িদের বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৮ এএম, ২২ এপ্রিল ২০২১

সুনামগঞ্জের শাল্লায় ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু নির্যাতনে জড়িদের দ্রুত গ্রেফতারসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে রিসার্চ অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট অর্গানাইজেশন (আরইও) এবং হিউম্যান রাইটস অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ (এইচআরএবি)।

সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আলোকে বেশ কিছু সুপারিশ উত্থাপন করেছে তারা। একইসঙ্গে তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায় এই দুইটি মানবাধিকার সংগঠন।

বুধবার (২১ এপ্রিল) রাতে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এই আহ্বান জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আরইও’র চেয়ারম্যান প্রফেসর চন্দন সরকার। তিনি ছাড়াও গত ২৫ মার্চ ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান রাইটস অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুব হক, জেনারেল সেক্রেটারি (রিও) রাজেশ নাহা, গায়ক এবং মুক্তচিন্তার সাধারণ সম্পাদক বিমান তালুকদার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্যে বলা হয়, 'ফেসবুকে মিথ্যা স্ট্যাটাস দিয়ে ধর্মীয় অবমাননার অজুহাতে সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে হামলা ও আগুন লাগানোসহ সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি পরিচিত কৌশল, যা শুরু হয়েছে ২০১২ সালে রামুর মাধ্যমে, তখন যদি ব্যবস্থা নিত তাহলে এত অত্যাচার দেখতে হতো না। পূর্বে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার ধারাবাহিকতায় শাল্লায় সংখ্যালঘু নির্যাতন, হয়রানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসন চাইলেই এ ঘটনা রদ করা যেতো। কারণ ঘটনার আগের দিন স্থানীয়ভাবে তারা মিটিং মিছিল করেছে। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন তা জানত কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে এক শ্রেণির মানুষ আপামর মানুষের অন্তরে সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।'

jagonews24

রাজনৈতিক দলের মদদ ছাড়া এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বেড়ে ওঠা সম্ভব নয় দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, 'সকল রাজনৈতিক দল ও সরকারের মধ্যে কিছু কিছু লোক যারা মদদ দেয় তাদের এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদদ দেয়া বন্ধ করতে হবে। মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক প্রশাসন গড়ে তুলতে হবে।' মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখার জন্য সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত সুপারিশের মধ্যে রয়েছে :

জাতিগত সংখ্যালঘু এবং হিন্দু গ্রাম আক্রমণ ও লুটপাটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। ওই ঘটনা রুখতে ব্যর্থ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তপূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সব ধর্ম অবমাননা বন্ধ করতে হবে সঙ্গে সঙ্গে ধর্ম নামে নিরপরাধ মানুষের উপর হামলা বন্ধ এবং হেফাজতের হামলা ও নির্যাতনের পর নোয়াগাঁওসহ জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিশ্বাস ও আস্থায় চিড় ধরেছে, তাদের সেই বিশ্বাস ও মনোবল ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সুপারিশের মধ্যে আরও বলা হয়েছে, ঝুমন দাশ আপনের মা নিভারানী দাশের মায়ের মামলাটি থানায় এজাহার ভুক্ত না করায় তার উপর মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়, এই ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত উক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ প্রদান এবং নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে সকল নারী ও শিশুরা এখনও ট্রমার মধ্যে আছে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্তদের যথাযথ ক্ষতি নিরূপণ করে সেই মোতাবেক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং যে সকল বাড়ি আক্রান্ত হয়েছে তা পুনর্নির্মাণ করে দিতে হবে এবং দুর্গম ওই এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে হিউম্যান রাইটস এলাইন্স বাংলাদেশ, কানাডার বিএমআরএ, নেদারল্যান্ডের জিএইচআরডি প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ শাল্লার পাশের দিরাইয়ে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। পরদিনই নোয়াগাঁও গ্রামের এক তরুণ মামুনুল হককে কটাক্ষ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। মঙ্গলবার রাত থেকেই ওই স্ট্যাটাস নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। ওইদিন রাতেই ফেসবুকে পোস্ট দেয়া তরুণকে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা। বুধবার সকালে দা-লাঠিসহ নোয়াগাঁও গ্রামে মিছিল নিয়ে এসে ৮৭টি হিন্দু বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

আইএচআর/জেডএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]