প্রবাসীদের সঙ্গে ফিরছে সাধারণ যাত্রীরাও, কোয়ারেন্টাইন নিয়ে শঙ্কা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:৫২ এএম, ২২ এপ্রিল ২০২১
ফাইল ছবি

লকডাউন পরিস্থিতিতে দেশে ও বিদেশে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের কথা বিবেচনা করে বিশেষ ফ্লাইট চালু করা হলেও মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশ থেকে প্রবাসীদের সঙ্গে আরও অনেক যাত্রী ফিরছেন। এর ফলে ফেরত আসা যাত্রীদেরকে সরকার নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখার স্থান সংকুলান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ২৪ ঘণ্টায় (২১ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ২২ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) ১৫টি ফ্লাইটে সর্বমোট ৮৩৯ জন যাত্রী দেশে ফিরে এসেছেন। এর আগের চার দিন ফেরত আসা যাত্রীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪৬১ জন, ২৬৪ জন, ২২৭ জন ও ৩১ জন।

রাজধানীর সরকারি দুটি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের ধারণক্ষমতা প্রায় দুই হাজার জনের। এর মধ্যে আশকোনা হজ ক্যাম্পের ধারণক্ষমতা দেড় হাজারেরও বেশি এবং উত্তরার দিয়াবাড়িতে ধারণক্ষমতা সাড়ে চারশ জনের। গত কয়েক দিন ও এর আগে ফেরত আসা যাত্রীদের নিয়ে দুটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার প্রায় পরিপূর্ণ। গতকালের মতো আজও যদি আট শতাধিক যাত্রী ফেরত আসে তাদেরকে কোথায় পাঠানো হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

প্রবাসী কর্মীদের বিষয়টি মাথায় রেখে ১৭ এপ্রিল (শনিবার) থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার ও সিঙ্গাপুরে শতাধিক বিশেষ ফ্লাইটের অনুমোদন দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বেবিচকের এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনায় বলা হয়, প্রবাসী কর্মীরা এসব ফ্লাইটে করে তাদের কর্মস্থলে যোগ দিতে পারবে এবং ওই সব দেশে যদি কোনো বাংলাদেশি আটকে থাকেন আর তারা যদি দেশে ফিরতে চান তাহলে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করে তারা ফিরতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে তাদের কোভিড নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে এবং দেশে ফেরার পর ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকার শর্ত মানতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাহজালাল বিমানবন্দরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, মূলত আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইট চালু হলেও অনেকেই বিশেষ কৌশলে অন্য দেশ থেকে এসে নতুন টিকেট কিনে দেশে ফিরছেন। সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পাসপোর্ট সেভাবে দেখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তাদেরকেও ১৫ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠাতে হচ্ছে। ফলে গত পাঁচ দিনেই কোয়ারেন্টাইন সেন্টার পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ (২১ এপ্রিল) ভোরে তিনি জেনেছেন, দুটি সেন্টারে আর মাত্র ৬৫ জনকে কোয়ারেন্টাইনের সুযোগ রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যাত্রী ফিরেছেন ৮৩৯ জন। আজও এমন সংখ্যক যাত্রী ফিরলে তিনি কী করবেন তা নিয়ে ভাবছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

এমইউ/এআরএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]