আমদানির গমে প্রোটিনের মাত্রার পরিবর্তন হচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৬ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০২১

আমদানির গমে প্রোটিনের মাত্রার পরিবর্তন হচ্ছে না। বিনির্দেশ (স্পেসিফিকেশনের) পরিবর্তন করে প্রোটিনের মাত্রা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হলেও আপাতত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটি (এফপিএমসি)।

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) এফপিএমসির ভার্চুয়াল সভা হয়। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এতে সভাপতিত্ব করেন।

খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয় ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রোটিন সমৃদ্ধ গম আমদানি করে থাকে। এফপিএসসির সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও গত এফপিএমসি সভায় আমদানি করা গমের বিনির্দেশে প্রোটিনের পরিমাণ কমিয়ে গম আমদানির বিষয় প্রস্তাব করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরামর্শে আমদানি করা গমের বিনির্দেশে প্রোটিনের মাত্রা পুনর্নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ (বিএএনসি) এবং বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে মতামত চাওয়া হয়। প্রতিষ্ঠান দুটি আমদানি করা গমের বিনির্দেশে প্রোটিনের মাত্রা নির্ধারণ করে সুপারিশসহ মতামত দিয়েছে।

আমদানি করা গমের বিনির্দেশে বিএনএনসির সুপারিশ করা প্রোটিনের পরিমাণ ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। অপরদিকে গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সুপারিশ করা প্রোটিনের পরিমাণ ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সভায় এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। সভায় উপস্থিত একজন জাগো নিউজকে জানান, খাদ্যমন্ত্রী ও সচিব প্রোটিনের পরিমাণ কমাতে রাজি নন বলে তাদের মত জানিয়ে দেন।

তবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিনির্দেশের কারণে গম আমদানি করা যাচ্ছে না, তাই গমের মজুতও এক লাখ টনে নেমে গেছে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকা ছাড়া এত প্রোটিনযুক্ত গম পাওয়া যায় না। প্রোটিন ১১ শতাংশ করা যেতে পারে।’

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গমের মজুত পর্যাপ্ত আছে, বন্দরে গম খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেন, রাশিয়া, আর্জেন্টিনা ও পাঞ্জাবেও সাড়ে ১২ শতাংশ প্রোটিনযুক্ত গম পাওয়া যায়।

পরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই পরিস্থিতিতে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নেয়ার পক্ষে মত দেন। এই প্রেক্ষাপটে গম আমদানির বিনির্দেশে পরিবর্তন আনার উদ্যোগটি বাতিল করা হয়।

২০১৫ সালে ব্রাজিল থেকে পঁচা গম আমদানির অভিযোগ ওঠে। তখন এই ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। তখন খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন কামরুল ইসলাম। এরপর আমদানি করা গমের প্রোটিনের মাত্রা বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়।

আরএমএম/ইএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]