আরমানিটোলায় আগুন : আইসিইউতে তিনজন, বাড়ি ফিরেছেন পাঁচজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৪৬ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০২১

পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় হাজি মুসা ম্যানশনের কেমিক্যাল গোডাউনে লাগা আগুনের ঘটনায় সাফায়েত (২৮) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্ট থাকাবস্থায় রোববার (২৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

সাফায়েত মারা যাওয়ার পর এখন ওই হাসপাতালের আইসিইউতে একই পরিবারের তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা এখনো আশঙ্কামুক্ত নন।

এদিকে শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) ভোররাতে লাগা এই আগুনের ঘটনায় আহত পাঁচজনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। রোববার (২৫ এপ্রিল) দুপুরের আগে তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

jagonews24

রোববার সরেজমিন শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারির ইনস্টিটিউট ঘুরে দেখা গেছে, আরমানিটোলার ওই ঘটনায় আইসিইউ তিনজন বাদে এখনো পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ছয়জন। বাকিরা এখন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম জাগো নিউজকে বলেন, এখনো আইসিইউতে যে তিনজন ভর্তি রয়েছেন তারা শঙ্কামুক্ত নয়। তাদের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। তাদের বিষয়ে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না।

এখন যে তিনজন আইসিইউতে রয়েছেন তারা একই পরিবারে। তারা হলেন- আশিকুজ্জামান, তার স্ত্রী ইসরাত জাহান এবং শাশুড়ি সুফিয়া আক্তার।

আইসিইউয়ের সামনে কথা হয় আশিকুজ্জামানের মামা মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমাদের পরিবারের মোট ছয়জন পুড়ে গেছে। এর মধ্যে একজন মারা গেছে। এখানে তিনজন। বাকি দুইজন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে।

তিনি বলেন, আশিকুজ্জামান ও তার স্ত্রীর শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। সেইসঙ্গে ফুসফুসে প্রচুর ময়লা ঢুকেছে। ডাক্তার এখনো শঙ্কামুক্ত বলতে পারছেন না।

jagonews24

এর আগে এ ঘটনায় চারজন মারা গিয়েছিলেন। তারা হলেন- ভবনের কেয়ারটেকার রাসেল মিয়া, ইডেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার, হাজি ম্যানশনের সিকিউরিটি গার্ড অলিউল্লাহ ব্যাপারি এবং তার আত্মীয় কবির।

গত শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) ভোররাত ৩টা ১৮ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় হাজি মুসা ম্যানশনের কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন লাগে। ভবনের নিচতলায় আগুন লাগলে তার ধোয়ায় ভবনের দুইতলা থেকে ছয়তলার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বারান্দার গ্রিল কেটে সব ফ্লোরের লোকজনকে উদ্ধার করে নিচে নামিয়ে আনেন।

ওই ভবনের পঞ্চম তলার বাসিন্দা ফারুক ভূঁইয়া ও তার স্ত্রী আগুনে পুড়ে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে রয়েছেন। ফারুক ভূঁইয়া বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বারান্দার গ্রিল কেটে আমাদের উদ্ধার করেছে। পরে মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে এখানে এসেছি। এখানকার চিকিৎসা খুব ভালো।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, আরমানিটোলার ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিটি পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দিয়েছে ঢাকার ডিসি অফিস। এছাড়া কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। এই হাসপাতালের তেমন খরচ না হলেও টেস্ট ও ওষুধের দাম আমাদের দিতে হয়।

এনএইচ/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]