স্বস্তির বৃষ্টিতে ঘরমুখো মানুষের চরম ভোগান্তি

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:৩৪ এএম, ০৩ মে ২০২১ | আপডেট: ১২:৪১ এএম, ০৩ মে ২০২১

টানা দাবদাহের অবসান ঘটিয়ে রোববার (২ মে) রাতে রাজধানীতে নামে স্বস্তির বৃষ্টি। সাড়ে ১০টার দিকে বৃষ্টির গতি কিছুটা কমে আসে। তখন ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাজধানীর নিউমার্কেটের অদূরে নীলক্ষেত মোড়ে শত শত মানুষ গন্তব্যে পৌঁছানোর অপেক্ষা করছিলেন। প্যাডেল চালিত রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল দেখলেই তাদের অনেকে দৌড়ে যাচ্ছেন। অন্য সময় যানবাহন ভাড়া করতে দরদাম করলেও মুষলধারে বৃষ্টির পর বাড়ি ফেরার তাড়ায় ব্যস্ত সবাই মুহূর্তেই ভাড়া ঠিক করে গন্তব্যে ছুটছিলেন।

রাস্তায় থাকা অসংখ্য মানুষের তুলনায় স্বল্পসংখ্যক যানবাহন থাকায় নিরুপায় হয়ে কেউ কেউ বৃষ্টিতে ভিজে আবার কেউবা পলিথিন কিংবা ছাতা মাথায় হেঁটেই রওনা হন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে এ দৃশ্যের সাক্ষী হন জাগো নিউজের এ প্রতিবেদক।

গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীসহ সারাদেশে তীব্র গরমের পর এ বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিলেও করোনা সংক্রমণরোধে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় রাতে অসংখ্য ঘরমুখো মানুষ মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন।

রাত ৮টা পর্যন্ত মার্কেট খোলার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও মালপত্র গুছিয়ে দোকান বন্ধ করতে করতে এমনিতেই ৯টা বেজে যায়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, ধানমন্ডি হকার্স, নুর ম্যানসনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সবগুলো মার্কেটের শত শত দোকান মালিক ও কর্মচারী ছাড়াও আটকা পড়েন শত শত ক্রেতা। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে ঈদ শপিংয়ে আসা ক্রেতারা মারাত্মক বিপাকে পড়েন।

এদিন রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা আতাহার আলী স্ত্রী ও ছোট দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে ইফতারের পর নিউমার্কেটে আসেন। ঘুরেফিরে ঈদের জামাকাপড় ও অন্যান্য পণ্যসামগ্রী কিনতে ৯টা বেজে যায়। মার্কেট থেকে বের হওয়ার চিন্তা করতে করতেই শুরু হয় বৃষ্টি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি হন্যে হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা খুঁজছিলেন। কিন্তু হাতেগোনা দু-একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থাকায় ভাড়া জিজ্ঞেস করার আগেই দলবেঁধে অপেক্ষাকৃত তরুণরা সেগুলোতে উঠে পড়ছিলেন।

এ প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার একদিকে লকডাউনের নামে গণপরিবহন বন্ধ রেখেছে আরেকদিকে ঈদ শপিংয়ের জন্য মার্কেটে খুলে দিয়েছে। সন্তানদের ঈদ শপিংয়ের আবদার মেটাতে ইফতারের পর সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে মার্কেটে এসেছিলাম। এখন ফেরার গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না।

নিরুপায় হয়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় দুটো রিকশা ঠিক করে যাত্রাবাড়ীর পথে রওনা দেন তিনি।

মুক্তার, হাবিব এবং রাসু নামে গাউছিয়া মার্কেটের তিন কর্মচারী নীলক্ষেত মোড়ে দাঁড়িয়ে কামরাঙ্গীরচর যাওয়ার জন্য ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা খুঁজছিলেন। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে না পেয়ে বৃষ্টিতে ভিজেই গন্তব্যে রওনা হন।

রাতের বৃষ্টির কারণে ভাড়ায় চালিত মোটরবাইকারদের ছিল পোয়াবারো অবস্থা। অন্যান্য দিন ক্রেতার জন্য অপেক্ষায় থাকলেও বৃষ্টির পর পরই সময়ে মুহূর্তেই দ্বিগুণ ভাড়ায় তাদেরকে নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন যাত্রীরা।

এমইউ/এসএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]