সমুদ্রে অপরাধ-দুর্ঘটনায় শাস্তির বিধান রেখে আইন সংশোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৯ পিএম, ০৩ মে ২০২১

সমুদ্রে সংঘটিত অপরাধ ও দুর্ঘটনায় ২ থেকে ২০ বছর কারাদণ্ড বা ২ থেকে ১১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে সংশোধন করা হয়েছে এ সংক্রান্ত আইন। একই সঙ্গে সংশোধিত আইন অনুযায়ী, সমুদ্রে সংঘটিত অপরাধের সঠিক ও দ্রুত বিচারের জন্য মেরিটাইম ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে।

সোমবার (৩ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটার জোনস (আমেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট ২০২১’ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আইনের খসড়াটি উপস্থাপন করে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘১৯৭৪ সালে প্রণীত টেরিটোরিয়াল ওয়াটার অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট আইনটি রহিত না করে আইনটিতে আন্তর্জাতিক আইনসমূহ, ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন দ্য ল অব সি (আনক্লোজ ১৯৮২) এবং সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত রায়সমূহের যথাযথ প্রতিফলনের মাধ্যমে যুগোপযোগী করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে টেরিটোরিয়াল ওয়াটার অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪ আইনটি অধিকতর সংশোধনের নির্দেশনা দিয়ে নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়।’

খসড়া ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটার জোনস (আমেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট ২০২১’ এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইনে সর্বমোট ২২টি সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে, আগের আইনে পাঁচটি সংজ্ঞা ছিল। সংশোধিত আইনে মোট ৩৫টি ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগের ধারা ছিল নয়টি।’

‘সমুদ্রে সংঘটিত অপরাধ ও দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ২ থেকে ২০ বছর কারাদণ্ড বা ২ থেকে ১১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সমুদ্রে সংঘটিত অপরাধের সঠিক ও দ্রুত বিচারের জন্য মেরিটাইম ট্রাইব্যুনাল গঠন করার বিধান রাখা হয়েছে’ বলেন খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, আনক্লোজ-১৯৮২ এর পার্ট-৫ ‘এক্সক্লুসিভ ইকনোমিক জোন’ এর উল্লেখ থাকায় প্রস্তাবিত আইনে ‘ইকনোমিক জোন’ এর পরিবর্তে ‘এক্সক্লুসিভ ইকনোমিক জোন’ ব্যবহার করা হয়েছে এবং এই কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত আইনে ‘এক্সক্লুসিভ ইকনোমিক জোন’ এর সংজ্ঞা ও সীমা সংশোধন করা হয়েছে এবং এই অঞ্চলে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আগের আইনে ‘এরিয়া’ এবং ‘হাই সি’ সংক্রান্ত কোনো ধারা না থাকায় ‘আনক্লোজ-১৯৮২’ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘এরিয়া’ এবং ‘হাই সি’ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

‘সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণ তথা সুনীল অর্থনীতির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে মেরিটাইম কো-অপারেশন প্রসার, ও সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ ও সুরক্ষার প্রয়োজনে সি গভর্নেস, ব্লু ইকনোমি এবং মেরিটাইম কো-অপারেশন সংক্রান্ত বিধিবিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেরিটাইম সায়েন্স রিসার্চের ব্যাপ্তি, এর পরিচালনার অধিকার ও এখতিয়ার প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিধিবিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমুদ্র দূষণের সংজ্ঞা, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, টেরিটোরিয়াল সি সংলগ্ন সমুদ্ৰাঞ্চলে পরিবেশের গুণগত মান ও বাস্তুসংস্থানগত ভারসাম্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধিবিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে খসড়া আইনে।’

আরএমএম/এমআরআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]