ঈদে নিরাপদ অর্থ লেনদেনে ডিএমপির ১৫ পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৩ পিএম, ০৪ মে ২০২১

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি বাড়ছে নগদ অর্থের লেনদেন ও স্থানান্তর। ঈদকেন্দ্রিক চুরি, ছিনতাইসহ মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির অপতৎপরতাও বৃদ্ধি পায়। বড় অংকের অর্থ উত্তোলন বা বহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানি এস্কর্ট সেবা দিচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি বলছে, করোনার বৈশ্বিক সমস্যার প্রভাব পড়েছে দেশেও। করোনা আতঙ্কে ঢাকার রাস্তাঘাট স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেকটাই ফাঁকা। একটু অসতর্কতার জন্য কষ্টে উপার্জিত অর্থ ছিনিয়ে নিতে পারে দুষ্কৃতকারীরা। সিসি ক্যামেরা আছে এমন ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন, ট্রাফিক সিগন্যাল বা জ্যামে অতিরিক্ত সতর্কতাসহ অর্থ বহন ও উত্তোলনে সাবধান থাকার আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি।

ডিএমপির ১৫ পরামর্শ

১. বড় অংকের অর্থ একা বহন করবেন না। সঙ্গে অতিরিক্ত একাধিক বিশ্বস্ত ব্যক্তি রাখুন। অর্থ বহন সংক্রান্তে কোনো তথ্য আগেই অন্যকে জানানো থেকে বিরত থাকা।
২. পায়ে হেঁটে অথবা রিকশায় অর্থ বহনের পরিবর্তে মোটরসাইকেল কিংবা গাড়িতে অর্থ বহন করা।
৩. নগদ অর্থ বহনের আগে নিশ্চিত হতে হবে যেন দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কেউ দুষ্কৃতকারীদের না জানিয়ে দেয়।
৪. দৈনিক নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন হলে মাঝে মাঝে ভিন্ন পথ ব্যবহার করা। যেন দুষ্কৃতকারীরা আগেই ওঁৎপেতে থাকার সুবিধা নিতে না পারে।
৫. অর্থ বহনের সময় ব্যাগ এমনভাবে ব্যবহার করা, যেন বাইরে থেকে বোঝা না যায়। এতে দুষ্কৃতকারীরা প্রলুব্ধ হওয়ার সুযোগ পাবে না।
৬. বড় নোট ব্যবহারে সচেষ্ট থাকা।
৭. সব টাকা একসঙ্গে না রেখে বিভিন্ন জায়গায় যেমন- পকেটে, ব্যাগে, সঙ্গে থাকা ব্যক্তির কাছে ভাগ ভাগ করে রাখা।
৮. গলিপথ কিংবা নির্জনপথ ব্যবহারের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার করা।
৯. ট্রাফিক সিগন্যাল বা জ্যামে পড়লে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা।
১০. সিসি ক্যামেরা আছে এমন ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করা। ব্যাংক থেকে বের হওয়ার পর বুঝতে চেষ্টা করা সন্দেহজনক কেউ অনুসরণ করছে কি না।
১১. বড় অংকের অর্থ পরিবহনের কাজটি রাতে না করে দিনে করার চেষ্টা করা।
১২. এটিএম বুথে টাকা তুলতে গেলে বুথের ভেতরে কেউ আছে কি-না নিশ্চিত হয়ে নেয়া। কেউ থাকলে বের হওয়ার পর বুথে প্রবেশ করা।
১৩. এটিএম বুথের অভ্যন্তরে আর্থিক লেনদেনে ব্যবহৃত পিন নম্বরটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা।
১৪. সম্ভব হলে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফারের কাজটি চেকের মাধ্যমে সম্পন্ন করা।
১৫. বড় অংকের টাকা পরিবহনে প্রয়োজনে পুলিশ এস্কর্ট ব্যবহার করা।

যেভাবে ডিএমপির সহায়তা পাবেন

সহায়তাপ্রত্যাশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট থানা অথবা পুলিশ কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করবেন। এক্ষেত্রে পুলিশ এস্কর্টপ্রত্যাশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে যানবাহনের সংস্থান করতে হবে। এ জন্য কন্ট্রোল রুমের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। ফোন: ৯৫৫১১৮৮, ৯৫১৪৪০০, ৫৫১০২৬৬৬, ০১৩২০০৩৭৮৪৫। এছাড়া জাতীয় জরুরি সেবা: ৯৯৯ তো আছেই।

টিটি/বিএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]