সরকারিভাবে হজে পাঠানোর কথা বলে নজরুলের প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০০ পিএম, ০৫ মে ২০২১

হজে যেতে ইচ্ছুক সহজ-সরল লোকদের কাছে ফোন করে কখনও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আবার কখনও এমপি ও মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিয়ে বলতেন- ‘আপনি পবিত্র হজ পালনের জন্য মনোনীত হয়েছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করতে হলে আপনাকে নিবন্ধনের জন্য সাড়ে সাত হাজার টাকা বিকাশ বা নগদ নম্বরে পাঠাতে হবে। টাকা না পাঠালে আপনার মনোনয়ন বাতিল করা হবে।’ তারপর টাকা পাঠাতে সম্মত হলে একটি বিকাশ বা নগদ নাম্বার দিয়ে টাকা পাঠাতে বলতেন। এভাবে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছেন নজরুল।

বুধবার (৫ মে) দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার নজরুল সম্পর্কে এসব কথা বলেন।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মুসল্লিদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ডিএমপির গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গ্রেফতার মো. নজরুল ইসলাম (৫৮) এ চক্রের মূলহোতা বলে জানায় পুলিশ।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম শাহবাগ থানার একটি মামলা তদন্ত করে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরুলকে খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করে।’

ডিবি প্রধান বলেন, ‘গত ২৬ এপ্রিল জনৈক মফিজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে ফোন দিয়ে নোয়াখালি-১ আসনের সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করার ব্যবস্থা করে দেবেন। নিবন্ধন বাবদ সাড়ে সাত হাজার টাকা লাগবে। অন্যথায় তার হজ করা হবে না। এ বিষয়ে চাটখিল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়।’

‘চক্রটি বিভিন্ন জায়গায় এভাবে ফোন দিতে থাকায় ভিকটিমদের মধ্যে অনেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় পরিচালিত হজ কল সেন্টারে (০৯৬০২৬৬৬৭০৭) ফোন করলে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে এবং পরবর্তীতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুহা. ইয়াকুব আলী জুলমাতি বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে চক্রটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে সহজ-সরল লোকদের প্রতারিত করে অনেক টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ প্রতারণার কাজে তারা ভুয়া নিবন্ধিত ২০-২৫টি সিম ব্যবহার করতেন যাতে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব না হয়।’

এদিকে পুলিশ গ্রেফতার নরুল ইসলামের সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন, তিনটি সিমকার্ড ও নগদ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

টিটি/ইএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]