ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় খুন, কঙ্কাল পাওয়ার ১ বছর পর আসামি শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০২:০০ এএম, ০৭ মে ২০২১

গত বছরের ২ মার্চ চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের চৌচালা এলাকায় জমি খুঁড়তে গিয়ে এক ব্যক্তির কঙ্কাল পেয়ে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ কঙ্কালটি উদ্ধার করে।

বিষয়টি জানাজানি হলে শামশুল নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, কঙ্কালটি তার ভাইয়ের। তার দাবির সত্যতা যাচাই করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে কঙ্কালটি শামশুলের ভাই রুবেলের (২৭) বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

এরপর আদালতের নির্দেশে রুবেলের হত্যা মামলার দায়িত্ব গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই জানায়, তদন্তের শুরুতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রুবেলের ব্যবহৃত মোবাইলটি জাহেদ নামে এক ব্যক্তি ব্যবহার করছে বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সোহরাব থেকে মোবাইলটি কিনেছেন বলে স্বীকার করেন। স্থানীয়দের জিজ্ঞাবাদে পুলিশ জানতে পারে, সোহরাব রুবেল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে হালিশহর এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

এরপর প্রায় এক বছরের চেষ্টা শেষে বুধবার (৫ মে) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সোহরাবকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পরদিন বৃহস্পতিবার (৬ মে) সোহরাব হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে চট্টগ্রামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে সোহরাব উল্লেখ করেন, তিনি এবং রুবেল পাশাপাশি জমিতে চাষাবাদ করতেন। এতে উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে রুবেলের কাছ থেকে সোহরাব সুদে কিছু টাকা ধার নেন। পাঁচমাস পর সেই টাকা ফেরত নিয়ে উভয়ের মধ্যে বেশ কয়েকবার ঝগড়া হয়। একদিন জমিতে ঝগড়ার একপর্যায়ে রুবেলকে কোদাল দিয়ে আঘাত করে সোহরাব। এতে রুবেল ঘটনাস্থলে নিহত হয়।

জবানবন্দিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, রুবেলকে খুন করে কেউ জানার আগেই ওই জমিতে গর্ত করে তাকে মাটিচাপা দেয়া হয় এবং একই সঙ্গে তার পকেট থেকে মোবাইলটি নিয়ে নেয়। মোবাইলটি তার বন্ধু জাহেদকে বিক্রি করে এই ঘটনার তিনদিন পর ভয়ে হালিশহর এলাকা ছেড়ে সোহরাব গাজীপুরের চলে যায়।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জাগো নিউজকে বলেন, ‘রুবেলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা থেকে সোহরাব হোসেন বলীকে (৫৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।’

মিজানুর রহমান/এমআরএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]