ফেরি বন্ধ : তারপরও নৌকা-ট্রলারে ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা পার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫২ পিএম, ০৮ মে ২০২১ | আপডেট: ০৯:১২ পিএম, ০৮ মে ২০২১

করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার লকডাউন (বিধিনিষেধ) দিলেও মানুষের ঢল নামে ফেরি ঘাটগুলোতে। এ অবস্থায় দিনের বেলায় সব ধরনের ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরার ছোট্ট নৌকা ও ট্রলারে পদ্মা পাড়ি দেয় লোকজন। এতে নারী, শিশুদেরও দেখা যায়। শুধু তাই নয়, ট্রলারগুলো যাত্রী ও মোটরসাইকেল বহন করেও পদ্মা পার হচ্ছে।

এর আগে শনিবার (৮ মে) সকাল থেকে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে বন্ধ করে দেয়া হয় ফেরি চলাচল। ঢাকা থেকে এই পথে মূলত বরিশাল বিভাগের সবগুলো জেলায় মানুষ যাতায়াত করে।

jagonews24

দেখা যায়, কাঁঠালবাড়ি ও শিমুলিয়া ঘাটে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করছে। ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোট না পেয়ে তারা মরুভূমির মতো পদ্মার বিশাল চর দিয়ে হেঁটে গন্তব্যের পথে রওনা দেয়। জাজিরা ঘাটের দিকে ভেসে ওঠা এই চর দিয়ে দুই থেকে তিন কিলোমিটার হেঁটে যায় যাত্রীরা।

আবার কেউ কেউ বেশি ভাড়া দিয়ে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারে পদ্মার বুক দিয়ে যাত্রা করে। এসব নৌকা ও ট্রলারে তিন-চারশ এমনকি ৫০০ টাকা জনপ্রতি ভাড়া আদায় করা হয়। এছাড়া কাঁঠালবাড়ি থেকে শিমুলিয়া আসার পথে নদীর এক অংশ থেকে ছোট নৌকায় ৪০-৫০ এমনকি ১০০ টাকা করে ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের পদ্মার চরে নামিয়ে দেয়া হয়। এরপর সেখান থেকে আবার তিন-চারশ টাকায় নৌকা বা ট্রলারে পদ্মা পার হয় মানুষ।

বরিশালে যাওয়ার জন্য ঘাটে আসা আসাদুল জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভোর ৬টায় ঘাটে এসে দেখি ফেরি বন্ধ। এখন ৫০০ টাকা দিয়ে ট্রলারে ওই চরে আনার পরে বলে আর নেয়া যাবে না। এরপর হাত-পা ধরে আরও একশ টাকা দিয়ে আসলাম।’

গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাওয়া কাঠ ব্যবসায়ী সুরুজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্ত্রী ও সন্তানদের ঢাকার মিরপুর থেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে এসেছি। কিন্তু জানা ছিল না ফেরি বন্ধ। এ অবস্থায় অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে ঢাকায় যাচ্ছি। নদীর চর দিয়ে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে এসেছি।’

এদিকে ফেরি বন্ধ থাকায় উভয় ঘাটে আটকা পড়েছে পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, কাভার্ড ভ্যানসহ প্রায় ৫০০ যানবাহন।

jagonews24

বাগেরহাট থেকে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছিলেন দিদারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঘাটে আসা মাত্রই ট্রলারচালকরা ফেরি বন্ধ বলে ডেকে ডেকে ট্রলারে তুলছেন। ৫০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। ফেরি নেই। ওপার যেতে হবে। তাই আমরাও বাধ্য হয়ে ট্রলারে ঝুঁকি নিয়ে উঠলাম।’

কাঁঠালবাড়ি ঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে আটকা পড়া কাভার্ড ভ্যানের চালক কাজল ব্যাপারী বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাটেও দুর্ভোগ। সেখানে গেলেও আর ফেরিতে উঠতে পারব না। তাই এ ঘাটেই অপেক্ষা করছি। তবে শনিবার সকালে এখানে আটকা পড়া বেশ কয়েকটি ট্রাক দৌলতদিয়া ঘাটে চলে গেছে।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কাঁঠালবাড়ি ফেরি ঘাটের ব্যবস্থাপক বলেন, ‘আমাদের এই নৌপথে কবে থেকে ফেরি চলবে, তা ঠিক বলা যাচ্ছে না।’

উল্লেখ্য, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক শনিবার (৮ মে) থেকে দিনের বেলায় সব ধরনের ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে। শুধু রাতে পণ্যবাহী পরিবহন পারাপারের জন্য ফেরি চলাচল করবে।

এফএইচ/জেডএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]