অল্পে তুষ্ট ওরা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৫:২২ পিএম, ০৯ মে ২০২১ | আপডেট: ০৮:২৭ পিএম, ০৯ মে ২০২১

রোববার, দুপুর আনুমানিক একটা। শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর একটি গাছের নিচে খেলা করছে দু’জন ছোট্ট শিশু। গাছের সঙ্গে দড়ি বেঁধে একটি রিকশার পরিত্যক্ত টায়ারকে দোলনা বানিয়ে মহানন্দে দোল খাচ্ছিল ওরা। ওদের একজনের বয়স (মেয়ে শিশু) আনুমানিক ছয়-সাত বছর, আরেকজনের বয়স খুব বড় জোর বছর পাঁচ। সম্পর্কে ওরা ভাই-বোন।

খানিক সময় পরপর দোলনা থেকে একজন নেমে আরেকজনকে দোল খাওয়ার সুযোগ দিচ্ছিল। ওদের নির্মল আনন্দ পার্কে উপস্থিত অনেকেরই নজর কাড়ে। কৌতূহলবশত এগিয়ে আলাপকালে জানা যায় মেয়েটির নাম সামিয়া আর ছেলেটির নাম আরাফাত। ওরা সম্পর্কে ভাই-বোন। এ পার্কেই ওদের বাবা মা ফুল ও চা বিক্রি করেন।

Happy-1.jpg

ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের লালনপালন করতে কত গৃহকর্মী, হরেক রকমের খাবার, কম্পিউটার-মোবাইলে কার্টুন চালাতে হয়, কোথাও পড়ে ব্যথা পাওয়ার ভয়ে সারাক্ষণ বাবা মা অস্থির থাকেন কিন্তু সামিয়া ও আরাফাতরা অল্পতেই তুষ্ট। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত বাতাসে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তাদের। খেলাধুলা করতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে ব্যথা পেলেও ওদের হাত ধরে তুলে ধরার কেউ নেই। তবুও এ নিয়ে শিশুদের কোনো হাপিত্যেশ নেই।

রোববার দুপুর আনুমানিক পৌনে ১টায় রাজধানীতে বৃষ্টি নামে। সকালের প্রখর রৌদ্রজ্জ্বল পরিবেশে হঠাৎ করে আকাশ মেঘে কালো হয়ে রিমঝিম বৃষ্টি নামে। রিকশার যাত্রী উচ্চকণ্ঠে চালককে জিজ্ঞাসা করে ‘চাচা মিয়া, প্লাস্টিক আছে নাকি। হঠাৎ করে বৃষ্টি নামায় রাস্তার অসংখ্য মানুষকে কাকভেজা হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। গত কয়েকদিন যাবত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বৃক্ষনিধনকে কেন্দ্র করে সারাক্ষণই প্রতিবাদকারী লোকজনের যাতায়াত। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সদস্যদের প্রহরায় দেখা যায়।

Happy-1.jpg

বৃষ্টির কারণে টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অদূরে বৃক্ষমায়া সংগঠনটির (প্রাতঃভ্রমণ ও ব্যায়ামকারী) শেডে বেশ কিছু সংখ্যক মানুষকে আশ্রয় নিতে দেখা যায়। এগিয়ে যেতেই চোখে পড়ে, সেখানে বাউল শিল্পীদের গানের আসর বসেছে। নামিদামি শিল্পীদের মতো ওদের হাতে যান্ত্রিক নানা উপকরণ নেই, খালি গলায় মনের সুখে মিনারেল ওয়াটারের বোতল দিয়েই তাল তুলে গান গাইছেন। বাউলরা জানায়, গান গেয়েই ওদের প্রশান্তি। পার্থিব খুব বেশি চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই তাদের।

এমইউ/এআরএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]