ঈদের আগের দিন যাত্রীর চাপ কম গাবতলীতে

মুহাম্মদ ফজলুল হক
মুহাম্মদ ফজলুল হক মুহাম্মদ ফজলুল হক , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৭ পিএম, ১৩ মে ২০২১ | আপডেট: ০১:৩১ পিএম, ১৩ মে ২০২১

রাত পার হলেই দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারণে অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছরের চিত্র ভিন্ন। সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের কারণে বন্ধ দূরপাল্লার গণপরিবহন। বাস না পেয়ে ঈদের আগে গাবতলী হয়ে বাড়ি ফেরা দক্ষিণবঙ্গ আর উত্তরবঙ্গের মানুষ দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাইক্রোবাস, ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পরিবহনে বাড়ি ফিরেছেন।

গত কয়েকদিন গ্রামের বাড়ি ফিরতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে। কিন্তু আজকের চিত্র একেবারেই আলাদা। ঈদের আগের দিন গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরে ফেরা মানুষের তেমন ভিড় চোখে পড়েনি, যা রীতিমতো অবাক করার মতো।

বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীদের কোনো ভিড় নেই। প্রতিবারের মতো বসানো হয়নি কোনো নিরাপত্তা ওয়াচ টাওয়ার। ঈদের আর মাত্র এক রাত বাকি থাকলেও বসেনি কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর বুথ। গত বছর স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চললেও এবার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে কোনো দূরপাল্লার বাস সরাসরি ছেড়ে যায়নি।

jagonews24

এখানে সোহাগ, শৌখিন পরিবহনসহ বহু গাড়ির কাউন্টার থাকলেও সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় এদিন চলেনি কোনো পরিবহনের বাস।

বৃহস্পতিবার গাবতলী বাস টার্মিনালে আসেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা রংপুরের দেলোয়ার। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে গত রোজার ঈদে বাড়ি যাইনি। গত ঈদে না যেতে পেরে এবার মনে করলাম মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাব। তবে গত কয়েকদিন ধরে মাইক্রো, অ্যাম্বুলেন্স ও পিকআপে যে পরিমাণ ভিড় আর বেশি ভাড়ার খবর শুনেছি, চিন্তায় ছিলাম। তার পরেও ভয়ে ভয়ে আসলাম বাড়ি যাওয়ার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘সকালে গাবতলী বাস টার্মিনালে এসে দেখি ভিড় একটু কম। বাস পাওয়ার তো কোনো ঝামেলা নেই। দেখি কারও সাথে কোনো গাড়িতে উঠতে পারি কি-না।’

এদিকে, গত মঙ্গলবার (১১ মে) ও বুধবার (১২ মে) সকাল থেকে সারাদিনের চিত্র ছিল ভিন্ন। রাস্তাঘাট, ফুটপাত আর গাবতলীর পাশে আমিনবাজারে ছিল দূরপাল্লার যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। গতকাল সন্ধ্যার পর পর্যন্ত মাইক্রো, অ্যাম্বুলেন্স ও পিকআপসহ সব পরিবহনে ঝুঁকি নিয়ে এবং বেশি ভাড়া গুণে বাড়ি ফিরেছেন যাত্রীরা। তবে আজ তেমন চাপ নেই।

দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ মো আব্দুল জলিল জাগো নিউজকে বলেন, ‘গতকাল যে পরিমাণ লোক এই টার্মিনালে ছিল, সে তুলনায় আজ তো কোনো লোকই নাই। আজ সকালে একেবারেই লোকজন ছিল না। দুপুরে এখন হয়তো কিছু চাপ বাড়তে পারে।’

jagonews24

এদিকে, টার্মিনালের পাশেই বাইক নিয়ে বসে থাকা চালকরা বগুড়া, সাতক্ষীরা, যশোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, ঝিনাইদহ, মাগুরা বলে ডাকাডাকি করছেন। তারা মোটরসাইকেলে ভাড়া চাচ্ছেন ২২’শ টাকা। এ কথা শুনে অনেক যাত্রী রাগ করে চলে যাচ্ছেন আর বলছেন ২২’শ টাকা হলে তো মাইক্রোতেই যেতে পারি।

আজও প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে চেপে যাত্রীরা আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাটে যাচ্ছেন। জনপ্রতি বাসে ২০০ টাকা আর মোটরসাইকেলে ৫ থেকে ৬শ টাকা নিচ্ছেন। যেখানে গতকাল মোটরসাইকেলে ছিল ১ হাজার থেকে ১২’শ টাকা ভাড়া। সে তুলনায় আজ কমেছে জনপ্রতি ভাড়াও।

এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাতে দূরপাল্লার কিছু পরিবহন যাত্রীদের নিয়ে গাবতলী টার্মিনাল থেকে ছেড়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাবতলী টার্মিনালের একজন জানান, রাতে বিভিন্ন পরিবহন যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছেড়েছে। তারা জনপ্রতি ভাড়া নিয়েছেন এক হাজার টাকা। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা ঠিকই যাত্রী পরিবহন করেছেন।

এর আগে গতকালও সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশি ভাড়া নিয়ে পুলিশের সামনে দিয়েই যাত্রী নিয়ে আরিচা, পাটুরিয়া গেছে বিভিন্ন পরিবহন।

এফএইচ/এমআরআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]