ঈদের দিনও কোনো আয়োজন নেই ষাটোর্ধ্ব রহিমার ঘরে

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:২৬ পিএম, ১৪ মে ২০২১

শুক্রবার (১৪ মে) মধ্য দুপুর। রাজধানীর নিউ মার্কেট ওভারব্রিজের নিচে দুটি কাগজের বস্তার উপর শুয়ে ঘুমাচ্ছিল ৮-১০ বছর বয়সী একটি ছেলে। পাশেই ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা আরেকটা বস্তায় কুড়িয়ে আনা কাগজ ভরছিলেন। তার পাশে দাঁড়িয়ে ৭-৮ বছর বয়সী একটি মেয়ে। বস্তায় কাগজ ভরতে ভরতে বৃদ্ধা বলছিলেন, ‘ক্ষুধায় পেট জ্বলতাছে, কতক্ষণে বাসায় যামু, কহন (কখন) রানমু (রান্না), কহন খামু। ওই তানিয়া সাইদুররে ঘুম থাইক্যা উঠা।’

রহিমা আক্তার নামের ওই বৃদ্ধা জানান, বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত জেগে থেকে মেয়েকে নিয়ে নিউ মার্কেটের বিভিন্ন দোকান থেকে ফেলা ময়লা ও পরিত্যক্ত কাগজ কুড়িয়েছেন। নাতি সাইদুর ও নাতনি তানিয়াও বস্তায় কাগজ ভরতে সাহায্য করছে রাত জেগে। ভোরে মেয়ের ঘুম আসায় তাকে কামরাঙ্গিরচরের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। নাতিটাও কাহিল হয়ে ঘুমাচ্ছে। একটি বস্তায় কাগজ ভরা তখনও বাকি ছিল।

jagonews24

তিনি আরও জানান, তার স্বামী বছর দশেক আগে মারা গেছেন। দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে সংসার চালাতে প্রতিদিন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন রহিমা আক্তার। আজ ঈদের দিনও কিছু বাড়তি আয়ের জন্য কাজ করছেন তিনি।

রহিমা আক্তার বলেন, সারারাত ধরে কাগজ কুড়ানোয় ব্যস্ত থাকায় এখনও পর্যন্ত কিছু মুখে দেয়ার সুযোগ পাননি। ঈদের দিন হলেও তার কোনো আয়োজন নেই। বড় মেয়ে অসুস্থ। কোনো কাজ করতে পারে না। ছোট মেয়েটা রাত জেগে কাগজ কুড়িয়ে বাসায় গিয়ে ঘুমিয়েছে। ৫-৬ বস্তা কাগজ নিয়ে তিনি কামরাঙ্গিরচরের বাসায় যাবেন। ঈদের জন্য কিছু কেনাও হয়নি। ঘরে চাল ও ডাল যা আছে তাই রান্না করে দুমুঠো খেয়ে ঘুম দেবেন।

jagonews24

ষাটোর্ধ্ব এই বৃদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, তিনি নিজেও হাড়ক্ষয়ের রোগী। নিচে নিয়ে কাগজপত্র কুড়াতে ডাক্তাররা নিষেধ করলেও পেটের তাগিদে ডাক্তারের নিষেধও মানছেন না তিনি।

তিনি বলেন, ‘এত কষ্ট আর ভালো লাগে না। মইরা গেলে তবেই যদি মুক্তি পাওয়া যায়।’ এ কথা বলে তিনি ঘুমন্ত নাতি সাইদুরকে বার বার ডাকতে থাকেন। কিন্তু রাত জেগে কাগজ কুড়িয়ে ক্লান্ত সাইদুর নড়েচড়ে আবার ঘুমিয়ে পড়ে।

এমইউ/এমএসএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]