ঈদের তৃতীয় দিনও হাতিরঝিলে উপচেপড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫১ পিএম, ১৬ মে ২০২১

করোনার বিধিনিষেধে বন্ধ প্রায় সব বিনোদন কেন্দ্র। এই সুযোগে রাজধানীর অন্যতম বিনোদনের জায়গা হয়ে উঠেছে উন্মুক্ত হাতিরঝিল।

শুক্রবার (১৪ মে) ঈদের দিন সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী ছিল হাতিরঝিলে। পরদিন (শনিবার) সারা বিকেল বৃষ্টি হওয়ায় অনেকে আসতে পারেননি। তাই রোববার (১৬ মে) তৃতীয় দিনে আবারও উপচেপড়া ভিড় দেখা গেল হাতিরঝিলে। সাধারণ মানুষ শিশু-কিশোর যারা ঘর থেকে বের হয়েছেন, তাদের অধিকাংশ ঢুঁ মারছেন এখানে।

jagonews24

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রোদ ও গরমে দর্শনার্থী কিছুটা কম থাকলেও বিকেলে রোদের তীব্রতা কমার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীর ভিড়। সন্ধ্যায় এসে তা পরিপূর্ণ হয়ে যায় কানায় কানায়।

হাতিরঝিল ঘুরে দেখা যায়, অনেকে মোটরসাইকেল, সিএনজি কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতে এসেছেন ঘুরতে। রাজধানীর চারপাশে প্রায় সব এলাকা থেকে মানুষ এসেছেন আজও। হাতিরঝিলে বসার জায়গাগুলো কোনোটিই খালি নেই। রাস্তার পাশে, ফুটপাতে, গাছের নিচে বসে গল্প, আড্ডা দিচ্ছেন অনেকে।

jagonews24

করোনা মহামারির বিস্তার রোধে ঈদ উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বাসায় ঈদের আনন্দ উপভোগের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। তারপরও যারা বের হচ্ছেন তাদের ভরসা উন্মুক্ত হাতিরঝিল বা চন্দ্রিমা উদ্যানের মতো স্থানগুলো। এ কারণে অন্যান্য বছরের ঈদের তুলনায় হাতিরঝিলে এবার মানুষের বেশি চাপ রয়েছে।

বিশেষ করে শুক্রবার ঈদের দিনে হাতিরঝিলে ছিল উপচেপড়া ভিড়। ওইদিন নগরীর অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হাতিরঝিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দুপুরের পর থেকেই স্রোতের মতো মানুষ আসতে থাকেন। অনেকে সূর্যের প্রখর তাপ উপেক্ষা করেও ঘোরাঘুরি করেন। সন্ধ্যার পরে হাজার হাজার বিনোদনপ্রেমী ছুটে আসেন সেখানে। রাতেও আসা-যাওয়ার মধ্যেই থাকেন বিনোদনপ্রেমী নগরবাসী। মাঝরাত পর্যন্ত সেখানে আড্ডা ও গল্প করতে দেখা গেছে মানুষজনকে।

jagonews24

আজ মোহাম্মদপুর থেকে হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা তরুণ দর্শনার্থী সোনাইম বলেন, বাইক নিয়ে চার বন্ধু এসেছি। করোনায় সব বন্ধ। অবশেষে এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। বেশি মানুষ না থাকলে সেসব এলাকায় ঘুরে মজা পাওয়া যায় না। এখানে অনেক মানুষ।

তরুণরা শুধু নয়, এসেছেন মাঝ বয়সী, বৃদ্ধ সবাই। তজিমুদ্দিন নামের এক দর্শনার্থী বলেন, প্রতি বছর চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক বা জাদুঘরে যাই। ওগুলো খোলা নেই। বাচ্চারা ঘরে থাকতে চায় না। তাই বাধ্য হয়ে এসেছি। এখানে সব বয়সী মানুষেরই ঘুরতে ভালো লাগে। খরচও নাই।

jagonews24

হাতিরঝিলের নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক বলেন, গত বছরের ঈদেও করোনা ছিল, ডিউটি করেছি। তবে গত বছর মানুষের চলাচল ছিল কম। এবারের চিত্র একেবারেই আলাদা। প্রচুর মানুষ এখানে আসছে।

আজিজুল হক নামের এক দর্শনার্থী বলেন, ঢাকার মতো ইট-পাথরের শহরে কত দিন ধরে ঘরের মধ্যে বন্দি থাকা যায়? বাস বন্ধ, গ্রামেও যেতে পারিনি। তাই ঘুরতে এসেছি। সারা হাতিরঝিল সিএনজিতে করে ঘুরেছি। আমার বাচ্চারা খুব আনন্দে আছে।

jagonews24

এদিকে দর্শনার্থীর চাপে জমজমাট হয়ে উঠেছে হাতিরঝিলের ওয়াটার বাস সার্ভিস। লাইন ধরে মানুষ টিকিট কেটে ওয়াটার বাসে উঠছেন। ঈদ উপলক্ষে ৮০ টাকায় আধা ঘণ্টা হাতিরঝিলে ঘোরার ব্যবস্থা করেছে ওয়াটার বাস সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। তিনটি ঘাটে মোট ১৭টি নৌকার মাধ্যমে এ সেবা দেয়া হচ্ছে।

jagonews24

এদিকে সন্ধ্যার পর আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে হাতিরঝিল এলাকাটি। হালকা আলো পড়ে ঝলমল করে ঝিলের পানি। হাতিরঝিলের ব্রিজগুলোতে লাগানো নানা রঙের আলোর ঝলকানি পানিতে খেলা করে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে এলোমেলো বাতাস। এই উদোম বাতাসে দোল খাচ্ছে ঝিলের পানি। এই দৃশ্য হাতিরঝিলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে দর্শনার্থীদের কাছে।

এনএইচ/এমআরআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]