রিজার্ভের অর্থে পায়রার চ্যানেল তৈরি প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০০ পিএম, ১৩ জুন ২০২১ | আপডেট: ০৭:১০ পিএম, ১৩ জুন ২০২১
ফাইল ছবি

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অর্থে পায়রা সমুদ্রবন্দরের ১০ মিটার গভীরতাসম্পন্ন ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল নির্মাণের সিদ্ধান্তকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরেকটি বার্তা বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

রোববার (১৩ জুন) রাজধানীর হোটেল রেডিসনে পায়রা সমুদ্রবন্দরের চ্যানেল নির্মাণের চুক্তি সই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

পায়রা সমুদ্রবন্দরের ১০ মিটার গভীরতাসম্পন্ন ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল নির্মাণ করতে বেলজিয়ামভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানি ‘জান ডে নুল’র সঙ্গে আজ চুক্তি সই করেছে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে দেশের উন্নয়নে ব্যবহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ তৈরি করেছেন এবং ২০২১ সালের ১৫ মার্চ তহবিলটির উদ্বোধন করেন। এই তহবিলের প্রথম গ্রাহক হিসেবে তিনি পায়রা বন্দরকে বেছে নিয়েছেন এবং আলোচ্য ড্রেজিং কাজটি এ তহবিল থেকে অর্থায়নের অনুমোদন করেছেন।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘কিছুদিন আগে পায়রায় গিয়েছিলাম। আমার স্ত্রীও ছিলেন। আমরা ঘুরে দেখেছি, চমৎকার জায়গা। এর মধ্যে নিশ্চয় আরও পরিবর্তন হয়েছে। দ্রুতই কাজ শেষ হবে। এটা আমাদের অর্থায়নে হচ্ছে। এটি শেখ হাসিনার আরেকটি বার্তা।’

jagonews24

‘জান ডে নুল’র সঙ্গে আজ চুক্তি সই করেছে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা বারবার দেখছেন এটা। পদ্মা সেতুর ব্যাপারে দেখলেন। উই ক্যান (আমরা পারি)। আমাদের সাহস আছে, সম্পদও আছে। আমরা অনেকে এটা বুঝি না। আমরা নিজেদের মনে করি বুভুক্ষু জাতি। কিন্তু না, আমাদের সম্পদ আছে।’

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এম এ মান্নান বলেন, ‘সম্পদের কোনো অভাব নেই। আমি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কাজ করি প্রায় আড়াই বছর হলো। সম্পদের অভাব কোথাও আমি ফিল (অনুভব) করিনি। অভাব মাঝে মাঝে আসে সততার, মাঝে মাঝে দায়বোধের।’

অনুষ্ঠানে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে ড্রেজিং কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় প্রায় ৫৩ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। দেশের প্রচলিত যাবতীয় বিধিবিধান প্রতিপালন করে আলোচ্য ড্রেজিং কাজটি করার জন্য জান ডে নুলের সাথে আজ পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি সই হয়েছে।

পায়রা বন্দরটি আন্দারমানিক নদীর তীরে রাবনাবাদ চ্যানেলে অবস্থিত। নিরবচ্ছিন্নভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য বর্তমানে চ্যানেলে মেইন্টেন্যান্স ড্রেজিং চালু রয়েছে, ফলে চ্যানেলের গভীরতা ৬ দশমিক ৩ মিটার বজায় রাখা হচ্ছে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বন্দরে অধিকতর বড় জাহাজ ভিড়ানোর জন্য ইতোপূর্বে বেলজিয়ামভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানি ‘জান ডে লু’র সাথে একটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ চুক্তি সই হয়েছিল বলেও জানায় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখন সেটা নিজস্ব অর্থায়নে করার সিদ্ধান্ত নিলো বাংলাদেশ সরকার।

রাবনাবাদ চ্যানেলে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেলের গভীরতা ১০ দশমিক ৫ মিটারে উন্নীত করা সম্ভব হলে বন্দরে ৪০ হাজার টন কার্গোবাহী এবং ৩ হাজার টিইইউবিশিষ্ট জাহাজ বন্দরে সরাসরি ভিড়তে সক্ষম হবে বলেও উল্লেখ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

তারা আরও বলেন, দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর হিসেবে ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পায়রা বন্দরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট তিনি বন্দরটিতে জাহাজ চলাচলের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত ১৩৪টি বাণিজ্যিক জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করেছে, যা থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে সরকার।

পিডি/এমএসএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]