কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার দক্ষ জনবলের অভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:১৯ পিএম, ১৫ জুন ২০২১

স্বাস্থ্য খাত এবং বিদ্যালয় পর্যায়ে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার মতো দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে বলে জানিয়েছে ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন।

সংগঠনটি বলছে, সরকারের অপ্রতুল তহবিল বরাদ্দের কারণে দেশে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিশোর-কিশোরী বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা এবং ওষুধ ও স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ কার্যক্রমে আরও তহবিল বরাদ্দ করা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবার বাজেট পর্যালোচনা ২০১৭-২০৩০’ শীর্ষক গবেষণার সার-সংক্ষেপ জানানোর জন্য আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচারক ওয়াহিদা বানু, সংসদ সদস্য সামসুর নাহার, হাবিবা রহমান খান, জাকিয়া পারভীন খানম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নিজামউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

চ্যালেঞ্জ-

>> সরকারি বিভিন্ন বিভাগ, বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং উন্নয়ন অংশীদারসহ স্টেকহোল্ডারদের মাঝে পর্যাপ্ত সমন্বয় ও সহযোগিতার অভাব।

>> স্বাস্থ্য সেক্টরে এবং বিদ্যালয় পর্যায়ে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার মতো দক্ষ জনবলের অভাব।

>> প্রয়োজনীয় মানবসম্পদের অভাব এবং পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকার কারণে সরকার কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবার পুরো প্যাকেজ বাস্তবায়নে সক্ষম নয়।

>> পিতা-মাতা ও সমাজ কিশোর কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে স্বীকার করতে নারাজ।

>> কর্মসূচি বাস্তবায়নে নীতি নির্ধারক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং শিশু সুরক্ষা, অধিকার এবং এএফএইচএস সম্পর্কিত আইন ঠিকমতো প্রতিফলিত না হওয়া।

সুপারিশ-

>> কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ করে সমাজের অংশগ্রহণ, কিশোর-কিশোরী বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা এবং ওষুধ ও স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ ইত্যাদি কার্যক্রমে আরও তহবিল বরাদ্দ করা।

>> কিশোর স্বাস্থ্য কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার জন্য ধীর গতিতে তহবিল বিতরণ কাটিয়ে ওঠার জন্য উপযোগী তহবিল বিতরণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

>> কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য কার্যক্রমটি সরকার, এনজিও এবং সিভিল সোসাইটির অধিকতর অংশগ্রহণে দেশের সর্বত্র প্রসারিত করা।

>> দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় কিশোর-কিশোরী বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্করণের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করা। দেশের প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোতে কিশোর-কিশোরী বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার ব্যবস্থা থাকা।

>> প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল মোতায়েন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া।

>> স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহকারীদের জ্ঞান ও সক্ষমতা বাড়াতে বাজেটে প্রচুর বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে।

>> প্রতিটি বিদ্যালয়ে ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় কিশোর-কিশোরী বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া।

>> ব্যাপকভাবে এএফএইচএস নিশ্চিত করতে, কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবার গুণগতমান বাস্তবায়নে জাতীয় কর্ম-পরিকল্পনায় জাতীয় কৌশলপত্র ২০১৭-২০৩০ এ আরও বেশি বাজেট (রাজস্ব এবং উন্নয়ন খাত থেকে) বরাদ্দ প্রয়োজন।

>> বার্ষিক বরাদ্দ করা বাজেটের যথাযথ ব্যয় নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

এমএএস/এসএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]