বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় অপেক্ষা, কখন আসবে সিরিয়াল

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০১:৪৭ এএম, ১৮ জুন ২০২১ | আপডেট: ০২:০৪ এএম, ১৮ জুন ২০২১

‘ভাই বৃষ্টি নামছে, অহন বেচা বন্ধ।’ এ কথা বলতে বলতে টিসিবির ট্রাকের উপর দাঁড়িয়ে পর্দা খুলে চিনি ও ডালের বস্তা ঢাকতে শুরু করলেন পণ্যবিক্রেতা। দূর থেকে এশার নামাজের আজান ভেসে আসছে। ঝিরঝির বৃষ্টি ঝরছে। বিক্রেতার মুখে এ কথা শুনে লাইনে দাঁড়ানো অর্ধশত নারী-পুরুষ সমস্বরে না-না, বন্ধ করবেন না বলে চেঁচিয়ে উঠলেন।

একজন দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বললেন, ‘মাগরিবের নামাজের পর থেকে সিরিয়াল ধরে আছি। আমরা কয়েকজন মিলে পর্দাটা ধরে রাখতেছি, আপনারা বেচাকেনা করেন।’ ক্রেতাদের কয়েকজন মিলে ট্রাকের উপর পর্দা মেলে উঁচু করে ধরে রাখার পর বেচাকেনা চলতে দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) রাত আনুমানিক আটটায় নিউমার্কেটের অদূরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ গবেষণা ইনস্টিটিউট ভবনের সামনের রাস্তায় এ দৃশ্যে চোখে পড়ে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে কেউ ছাতা মাথায় আবার কেউ বা বৃষ্টিতে ভিজেই লাইনে দাঁড়িয়ে সিরিয়াল কখন আসবে, কখন পণ্য বুঝে পাবেন সেই অপেক্ষাতে ছিলেন।

jagonews24

হঠাৎ করে একটি ট্রাকের সামনে অর্ধশত নারী-পুরুষকে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অনেকেই বড় ধরনের কোনো ঝামেলা মনে করে থমকে দাঁড়াচ্ছিলেন। কেউ উঁকি মেরে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলে ও রিকশা থেকে ঘটনা বোঝার চেষ্টা করছিলেন। ক্রেতাদের কয়েকজন নিচে দাঁড়িয়ে পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখায় সেখানে কি হচ্ছে বোঝা যাচ্ছিল না।

একটু খেয়াল করতে দেখা যায়, সরকারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকে ডিলাররা প্রতি কেজি চিনি ও মশুরের ডাল ৫৫ টাকা এবং ১০০ টাকা প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন।

ট্রাকের ওপর বসে থাকা বিক্রেতা জানান, বর্তমানে টিসিবির পণ্যের চাহিদা ব্যাপক। আগের মতো প্যাকেজে বিক্রি না করে পৃথকভাবেও পণ্য কেনার সুবিধা থাকায় দিনভর ক্রেতার ভিড় লেগেই থাকে।

jagonews24

লাইনে দাঁড়ানো একজন নারী জানান, বাজারের মূল্যের চেয়ে সুলভে কেনার সুযোগ থাকায় লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়িয়েও তিনি নিয়মিতই পণ্য কিনে থাকেন।

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে গত ৬ জুন থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে সারাদেশে তিনটি পণ্য বিক্রি শুরু করে টিসিবি। সারা দেশে ৪০০ জন ডিলারের ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে এ বিক্রয় কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৮০টি ও চট্টগ্রাম সিটিতে ২০টি ট্রাকে এ পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

টিসিবি সূত্র জানা গেছে, প্রতিটি ট্রাকে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০ কেজি চিনি, ৩০০ থেকে ৬০০ কেজি ডাল ও ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি করা হবে। দেশব্যাপী ৪০০ ট্রাকে পণ্য বিক্রি চলছে।

এমইউ/এমআরআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]