চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০১:৩৬ এএম, ২০ জুন ২০২১ | আপডেট: ০১:৫১ এএম, ২০ জুন ২০২১

দীর্ঘ ২০ বছর পর বর্ণিল আয়োজনে চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ জুন) বেলা ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চলে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন। এরপর বিকেল চারটায় শুরু হয়ে দ্বিতীয় অধিবেশন চলে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে নগরের লালখান বাজার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মেলন শুরু হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনলাইনে রাজধানী থেকে যুক্ত হয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ।

সকাল ১০টা থেকে সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টি ও অন্যান্য কারণে এক ঘণ্টা দেরিতে সম্মেলন শুরু হয়। পুরো সম্মেলনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

jagonews24

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে রাজধানী থেকে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি বলেন, ‘বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালপুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগ এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ সন্তুষ্ট। কারণ তারা প্রধানমন্ত্রীর যেকোনো কর্মসূচি আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছেন। বিশেষ করে করোনাকালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ত্রাণ ও বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১২ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী পিছিয়ে পড়া একটি দেশের দায়িত্ব নিয়ে বদলে ফেলেছেন। বাংলাদেশ এখন ঋণগ্রহীতার দেশ নয় বরং বাংলাদেশ ঋণদাতার দেশ। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ও সুদানকে ৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে। দেশের মাথাপিছু আয় এখন দুই হাজার ২২৭ ডলার। দেশের বর্তমান রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ সব দিক দিয়ে পাকিস্তান থেকে এগিয়ে আছেন।’

চট্টগ্রাম একটি মায়াবী শহর বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই শহর আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার। এ শহরে জন্ম নিয়েছেন মাস্টার দা সূর্যসেন, জহুর আহমেদ ও এমএ মান্নানের মতো গুণী ব্যক্তি।’

jagonews24

সম্মেলন আয়োজনকারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সম্মেলন দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করেন। এ সময় অনুষ্ঠান এক-দেড় ঘণ্টার বেশি করা ভালো না। অতিথিও কম দাওয়াত দেয়া উচিত। কারণ দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়তির দিকে। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে বিশেষজ্ঞরা করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছেন।’

বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশে একটি দল আছে, যারা দিনের আলোতে রাতের অন্ধকার দেখে। যারা পূর্ণিমার ঝলমলে আলোতে অমাবস্যার অন্ধকার দেখে। দলটির নাম বিএনপি। তারা অপপ্রচারের মাধ্যমে এদেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা বাধাগ্রস্ত করতেই বিএনপি এবং তাদের দোসররা আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশের এক শ্রেণির মানুষ অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া দলের অনুপ্রবেশ ঠেকাতেও সতর্ক থাকতে হবে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ইতোমধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তারা স্বেচ্ছাশ্রমে মানুষে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। করোনার সময় মানুষকে সেবা করেছেন। বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ধান কেটে দিয়েছেন।’

নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এইচএম জিয়াউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (এমপি), আওয়ামী লীগের কর্ম ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াশিকা আয়শা খান (এমপি), উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম।

আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আমজাদ খান। স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু।

অনুষ্ঠানে রাজধানী থেকে যুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান পরিবেশ করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাসান মতিউর রহমান মতি। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কেবিএম শাহজাহান ও সালাউদ্দিন আহমেদ।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে সমাপ্ত হয়। এরপর মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতি শেষে বিকেল চারটার দিকে শুরু হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। এ অধিবেশনে আগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং নতুন কমিটি গঠন সংক্রান্ত কার্যাবলী পরিচালনা করা হয়। এ সময় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের আবেদন জমা নেয়া হয়। সভাপতি পদের জন্য আবেদন করেন ৪৩ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আবেদন করেন ৩২ জন।

২০০১ সালে অ্যাডভোকেট এইচএম জিয়াউদ্দীনকে আহ্বায়ক ও কেবিএম শাহজাহান ও সালাউদ্দিন আহমদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ২০ বছর। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসেছে তিনবারের মতো। কিন্তু ২১ সদস্যের এই কমিটি আর পূর্ণাঙ্গ হয়নি। অধীনস্থ থানা কিংবা ওয়ার্ডেও দেয়া হয়নি কোনো কমিটি। ফলে নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে পদবিহীন কাজ করেছেন নীরবে-নিভৃতে। যদিও সম্মেলনের জন্য চলতি বছর ১১ এপ্রিল ও ২৯ মে দুটি তারিখ নির্ধারণ করেও করোনার জন্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

মিজানুর রহমান/এমএসএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]