চুরি করে ডিএসসিসির মশার ওষুধ বিক্রি, কর্মচ্যুত চারজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ২১ জুন ২০২১

মশা নিধনের কাজে ব্যবহৃত কীটনাশক এডাল্টিসাইড চুরি করে দোকানে বিক্রির দায়ে চার মশক কর্মীকে কর্মচ্যুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে যে দোকান মালিক এই কীটনাশক ক্রয় করেছেন তার বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।

কর্মচ্যুত চারজন হলেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-৫ এর ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের দৈনিক মজুরিভিত্তিক মশক কর্মী উজ্জ্বল সিদ্দিকী, সুজন মিয়া, হাফিজুল ইসলাম ও জুয়েল মিয়া।

ডিএসসিসির সচিব আকরামুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক দফতর আদেশে সোমবার (২১ জুন) তাদের কর্মচ্যুত করা হয়।

ডিএসসিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, দক্ষিণ সিটির চলতি মাসের ৯ তারিখে অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় হতে সাপ্তাহিক মশক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য ৭, ৪৫, ৪৬, ৫০, ৫২ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের মশক সুপারভাইজার ও তার প্রতিনিধির নিকট ৬ ড্রাম কীটনাশক সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি ড্রামের ধারণক্ষমতা ২০০ লিটার। নিয়মানুযায়ী সেসব কীটনাশক কাউন্সিলর দফতরে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু এডাল্টিসাইড সরবরাহের পর সেগুলো কাউন্সিলর কার্যালয়ে না দিয়ে দক্ষিণ সায়েদাবাদের ‘মেসার্স ভাই ভাই এজেন্সি’ নামে একটি খুচরা জ্বালানি তেল বিক্রেতার কাছে এগুলো বিক্রি করা হয়। এমন সংবাদের ভিত্তিতে করপোরেশনের মশক সুপারভাইজার মো. মনিরুল ইসলাম ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক মিজানুর রহমান ওই দোকানে উপস্থিত হন।

এ সময় তারা সেখানে ২০০ লিটারের দুটি ড্রাম ভ্যানগাড়ি হতে নামানো অবস্থায় দেখতে পান। ইতোমধ্যে আরেকটি ভ্যানযোগে ৩০ লিটার ধারণক্ষমতার তিন গ্যালন এডাল্টিসাইড মেসার্স ভাই ভাই এজেন্সির উত্তর-পশ্চিম যাত্রাবাড়ীর শোরুমের সামনে পৌঁছানোর খবর পাওয়া যায়। সেখানে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা মেলে।

এরপর দুজন ভ্যানচালককে কীটনাশক কোথা থেকে আনা হয়েছে তা জানতে চাইলে তারা ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কথা বলেন। পরে ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে যোগাযোগ করে জানা যায় যে, সরবরাহকরা কীটনাশক সেখানে পৌঁছায়নি। এরপরই ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডেও কীটনাশক পৌঁছানো হয়নি বলে জানা যায়।

বিষয়টি ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম অনু, অঞ্চলের সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং সায়েদাবাদ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিল্লাল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় সেই দোকানের গোডাউন হতে ২০০ লিটারের দুটি ড্রাম, ৩০ লিটারের ৮টি ও ২০ লিটারের ১টি গ্যালনসহ সর্বমোট ৬৬০ লিটার কীটনাশক জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে অঞ্চল-৫ (অ. দা.)-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা উক্ত দোকান ও দোকানের গোডাউন সিলগালা করেন। এরপর করপোরেশনের মশক সুপারভাইজার মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে দোকান মালিক আব্দুল মজিদ সিকদারের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন।

এমএমএ/জেডএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]